কুড়িগ্রামে সারের জন্য হাহাকার, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ভূরুঙ্গামারীতে সারের জন্য হাহাকার: ছবি যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে সারের জন্য হাহাকার চলছে। সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। কয়েক দিন আগে সার লুটের ঘটনার পর আবার কৃষকদের রাস্তা অবরোধের ঘটনায় প্রশাসন বিব্রত বোধ করছে।
সার সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। অবরোধ ভাঙতে ইউএনও সশরীরে হাজির হন ঘটনাস্থলে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণ করার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট বাজারে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে।
স্থানীয়রা জানান, সোনাহাট ইউনিয়নের কৃষকরা সকালে সোনাহাট বাজারে ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে জানতে পারেন আজ সার বিতরণ করা হবে না। এতে কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স সার বিতরণ শুরু করে।
সার বিতরণকালে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। লাইন দিয়ে সার নিতে গিয়ে গাদাগাদি ও হুড়োহুড়ির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঘণ্টাখানেক সার দেওয়ার পর ডিলার আকস্মিকভাবে সার বিতরণ বন্ধ করেন। এ সময় সারের টোকন সংগ্রহ করতে কৃষকদের আবারও হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
কৃষকদের অভিযোগ- সুষ্ঠুভাবে পরিমাণ মতো সার পাচ্ছেন না তারা। দুই-তিন দিন ঘুরে একদিন অল্প পরিমাণ সার পেলেও লাইনে ঝক্কি-ঝামেলা ও রোদে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এভাবে সার সংগ্রহে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় কৃষকদের। এছাড়া কাজের সময় তাদের সারের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় হচ্ছে। অথচ বৃষ্টির পর জমিতে এখন সারের খুবই চাহিদা। এ সময় সার প্রয়োগ করতে পারলে ফসল ভালো হতো; কিন্তু সার সংকটের কারণে চলছে হাহাকার।
সারের জন্য সড়ক অবরোধ ও বিতরণে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
সার ডিলার রাকিবুল জানান, সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকদের হাতে সার দিতে কিছুটা সময় লাগছে। সার নিতে এসে অনেকে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হচ্ছে। সকালে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন সব স্বাভাবিক আছে।
