বাঁধনের ওপর হামলাকারী মনিরুলের বিচার চান এলাকাবাসী
Advertisement
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে হামলাকারী মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের ধুরাইলের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জুলাই যোদ্ধার তিন সদস্য। তবে এর আগেই বাড়ি থেকে পালিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনা জানাজানি হলে হামলার ভয়ে তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
তবে বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনার জন্য মনিরুলের শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী।
মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তিনজন সদস্য মনিরুলের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তারা শুধু মনিরুলের বাড়িতে ঘুরে চলে গেছে। এলাকার কারো সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। তবে এই তিনজনের পরিচয় কেউ দিতে পারেননি।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমায় মনিরুল হাওলাদার। তিনি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র। এলাকায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে তার মা আলেয়া বেগম তার বড় ভাইকে নিয়ে বসবাস করেন। এছাড়া তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
দোচালা জরাজীর্ণ বাড়িতে মা ও ভাইয়ের সংসার। এখনো ঋণের টাকা শোধ করতে পারেননি মনিরুল। ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা জানাজানি হলে বৃদ্ধা মা ও তার বড় ভাইয়ের পরিবারের সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী মনিরুলের বিতর্কিত ঘটনার বিচার দাবি করেন। সেই সঙ্গে আগামীতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য মনিরুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও করেন। অন্যদিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে পুলিশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, এখনো বাড়ি-ঘর করতে পারে নাই। ঋণের বোঝা মাথার উপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, আমাকে এক পয়সাও দেয় না। বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সঙ্গে নাই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমি ওদের সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন ভাই সবাই পালাইছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল কামাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়ি-ঘরে হামলা করতে না পারে সেই ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে। ওখানের ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।
