কিশোর-কিশোরী সুরক্ষায় এক টেবিলে সরকার, এনজিও ও যুব সংগঠন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্যাতনের শিকার কিশোর-কিশোরীদের পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজারে বহুপক্ষীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শহরের হোটেল সি প্যালেস লিমিটেডে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ‘স্বপ্নের সারথি’ (সিসোর গার্লস ইনিশিয়েটিভ) প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সরকারি সংস্থা, দেশি-বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সভায় কক্সবাজারে যৌন নিপীড়ন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য সুরক্ষাসেবা আরও সহজলভ্য ও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সেবা দিচ্ছে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
এর ফলে সংকটে থাকা কোনো কিশোর-কিশোরীকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হবে। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় কিংবা আইনি সহায়তা—যে ধরনের সেবাই প্রয়োজন হোক, ভুক্তভোগীদের যাতে একাধিক জায়গায় ঘুরতে না হয়, সে জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গত বছরের সার্ভিস ম্যাপিং কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা (পিএসইএ) এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) শিকার ব্যক্তিদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন সহায়তায় বিভিন্ন ঘাটতির চিত্র উঠে আসে।
এসব ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে সভায় রেফারেল ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারে সক্রিয় ভিকটিম সাপোর্ট কল সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন বলেন, ‘বৈষম্য দূরীকরণে পুরুষ ও তরুণদের সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। সমাজসেবা বিভাগের আওতাধীন ৫৪টি সেবার বাইরে কোনো সেবার প্রয়োজন হলে সেবাপ্রার্থীকে যথাযথ প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানকারীর কাছে কার্যকরভাবে রেফার করতে হবে। কোনো সেবাপ্রার্থীকে উপেক্ষা, এড়িয়ে যাওয়া বা অসহায় অবস্থায় রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই।’
সভায় স্বাস্থ্য, মনোসামাজিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তাকে সমন্বিত করে এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি) কাঠামোর আলোকে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টেবিলিটি টু অ্যাফেক্টেড পপুলেশনস (এএপি) নীতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও তরুণেরা তাদের জন্য তৈরি সেবাব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দিতে এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, জেন্ডার ও বৈষম্যের বাস্তবতা বুঝে কাজ করতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও সক্ষমতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব সেবা হতে হবে শিশু-বান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য।’
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা আগামী ১২ মাসে কক্সবাজারে যুববান্ধব পিএসইএ ও জিবিভি সহায়তা আরও শক্তিশালী করতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এসব অঙ্গীকারের অগ্রগতি তদারকির জন্য একজন ফোকাল পয়েন্টও নিয়োগ করা হয়েছে।
সভা আয়োজনে জাগো ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড (ইএসএস) অনুসরণ করা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভেন্যু ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজগম্য রাখা হয়। পাশাপাশি আপ্যায়নে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত রাখা হয়।
