ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে নৌকা বাইচ, উপভোগ করল অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করল তিতাসপাড়ে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর বুকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং লাখো দর্শকের করতালি ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে টানা দুই বছর (২০২৪ ও ২০২৫) বন্ধ থাকার পর শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ আগস্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য বিগত দুই বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবারের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে তিতাসের ঢেউ আর দর্শকদের উচ্ছাস যেন একাকার হয়ে উঠে।
তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইল কান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে পৌর এলাকার মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পর্যন্ত (প্রায় দেড় কিলোমিটার) গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। নৌকা বাইচে জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানের ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। প্রত্যেকটি ধাপ থেকে একটি করে বিজয়ীসহ চারটি নৌকা চুড়ান্ত প্রতিযোীগতায় অংশ নেয়।
বিকেল সাড়ে ৩টায় তিতাসের শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ( সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
উদ্বোধনের পর রং বে-রঙের বাহারি পোশাক পরিহিত প্রতিযোগি নৌকা বাইচের মাঝিদল তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এসময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর পানিতে বৈঠার ছলাত ছলাত শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত হয়। দু’পাড়ের দর্শনার্থীরাও স্বতঃস্ফুর্ত আবেগে সুর মেলায় মাঝিদের সাথে— ‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।
পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ( সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার ও চিকিৎসক মো. আব্দুল মতিন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা সদরের শাপলা ভযেস ক্লাব দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে জেলা সদরের দারমা গ্রামে নৌকা দেড় লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলার নবীনগরের পুইল যুব সংঘ এক লাখ টাকা জয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ট্রফি প্রদান করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে তিতাসের দুই তীরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন। তারা তীরবর্তী ভবনের ছাদ, বিভিন্ন ঘাট এবং নৌযানের ওপর বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর পাড়ে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ।
