Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

কিডনি রোগে আক্রান্ত সজিব মিয়া বাঁচতে চান

Icon

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

কিডনি রোগে আক্রান্ত সজিব মিয়া বাঁচতে চান

কিডনি রোগে আক্রান্ত মো. সজিব মিয়া

Advertisement

আমার ছোট্ট মেয়েটির জন্য আমি পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই। আমার অবর্তমানে সে এতিম হয়ে যাবে। নিষ্পাপ মেয়েটির মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমাকে বাঁচতে হবে, কিন্তু উপায়ই বা কী? বাঁচতে গেলে যে চিকিৎসার জন্য অনেক ব্যয় করতে হবে, যা আমার সামর্থ্যের বাইরে।

রোগাক্রান্ত এবং দুর্বল কন্ঠে আস্তে আস্তে উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন- দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত মো. সজিব মিয়া (২৮)। অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন সজিব। পূর্ণ হবে তার নিষ্পাপ কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, ফিরে পাবে সে তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার পরিজনকে। 

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী মোছা. মেহেনা বেগম দম্পতির চার ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মো. সজিব মিয়া। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ক্রণিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন তিনি। বর্তমানে তার দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে।

চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন; কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারটির পক্ষে প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড় করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের ডান কিডনি ১৭.১ শতাংশ ও বাম কিডনি ১১.৬ শতাংশ মিলে মোট ২৮.৭ শতাংশ কার্যক্ষম। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

সজিবের ৭৫ বছর বয়সি বাবা আগে কৃষিকাজ করতেন। বয়সের ভারে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।

সজিব জানায়, ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার কিডনি ক্রিয়েটিনিন ১৫। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পর্যায়ক্রমে দুইবার ভারতের চেন্নাই অ্যাপোলো হাসপাতালেও গিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার পেছনে তার দরিদ্র বাবা-মা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। 

অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব মিয়া। নিজের আয়ে বাবা-মায়ের সংসারেও সহযোগিতা করতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সের সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

আড়াই বছর বয়সের ফুটফুটে সোনামণির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চান সজিব মিয়া। আর এজন্য বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। যোগাযোগ মো. সজিব মিয়া ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ (নগদ ও বিকাশ)। সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখার হিসাব নং-৫২০৪৩০১০২৪৩২২। 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম