ফরিদপুরে হাসান শেখ হত্যায় স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া লাশ গুমের ঘটনায় প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাসের সময় কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকালে ঝাউখোলা গ্রামের আজিজ খানের আখখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ ১৪ মে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার এসআই মিরাজুর রহমান ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম, শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এসএম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, স্ত্রীর আয় ও পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে হাসান শেখকে হত্যা করা হয়। আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
