সড়কে পড়ে ছিল রক্তাক্ত তরুণী, সবাই ব্যস্ত ছবি তোলায়
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাতের সড়ক। পড়ে আছেন এক নারী। শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন, রক্তে ভেজা শরীর। সাহায্যের আশায় হয়তো তাকিয়ে ছিলেন আশপাশের মানুষের দিকে। কিন্তু তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের হাতে তখন মোবাইল। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন।
এভাবেই বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা চারা বটতলা এলাকায় দীর্ঘ সময় পড়েছিলেন দুর্ঘটনায় আহত এক নারী।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত মোবাইলের ক্যামেরার বদলে এগিয়ে আসে কিছু মানুষের হাত। মরিয়মনগর চৌমুহনী এলাকায় একটি সভা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতা ইউসুফ সিকদার, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এস এম লোকমান, যুবদল নেতা মাসুদ পারভেজ ও ছাত্রদল নেতা শওকতসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহত নারীর পরিচয় তখনও জানা যাচ্ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।
তিনি সরফভাটা ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের সুভাষ নাথের স্ত্রী বীনা নাথ (৫০)। স্বজনরা জানান, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং বুধবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
বীনা নাথের ছেলে নয়ন নাথ জানান, বুধবার বিকাল ৩টার দিকে ধোপপুল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মা নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহত এক নারীর ছবি দেখে তারা তাকে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারীরা বলেন, সড়কে দুর্ঘটনায় আহত বা অসহায় কোনো মানুষকে পড়ে থাকতে দেখলে ছবি বা ভিডিও ধারণে ব্যস্ত না হয়ে দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।
বিএনপি নেতা ইউসুফ সিকদার বলেন, সড়কে আহত এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখে আমরা আর দেরি করিনি। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। দুর্ঘটনার পর একজন আহত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ছবি বা ভিডিও করার চেয়ে তাকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই বেশি জরুরি।
