জুমার নামাজের সময় মসজিদের আঙিনায় যুবককে ছুরিকাঘাত
Advertisement
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে মসজিদের আঙিনায় নাহিদ ইসলাম (২৬) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় উপজেলার বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নাহিদ ইসলাম বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
হামলার শিকার নাহিদ ইসলাম বলেন, জুমার নামাজ পড়তে আমি মসজিদে গেলে মসজিদের ভেতরে আমার ওপর হামলা চালান জুবায়েল মেম্বার ও তার লোকজন। তারা ছুরি ও রামদা দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়েছে। জুবায়েল মেম্বারের নির্দেশে রেজাউল, আফজল, জুনেল, সেবির, সুবাদসহ ১০-১২ জন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত নাহিদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েল আহমদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। কয়েক মাস আগে নাহিদ ও তার স্বজনদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে জুবায়েল মেম্বার ও তার ছোট ভাইসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় জুবায়েল মেম্বারের করা মামলায় নাহিদ ইসলাম প্রায় দুই মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে এসে তিনি জুবায়েল মেম্বারের স্বজনদের হামলার শিকার হন বলে স্থানীয়রা জানান।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়েল আহমদ ও নাহিদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের ঘটনায় নাহিদ প্রায় দুই মাস কারাভোগ করে মাসখানেক আগে বের হয়েছেন। আজ নাহিদ জুমার নামাজ পড়তে বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে যান। সেখানে তার ওপর হামলা হয়েছে। আমি সিলেট থেকে হামলার খবর শুনেছি। তার শরীরে ১১টি গুরুতর আঘাত করা হয়েছে বলে জেনেছি।
অভিযুক্ত পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জুবায়েল আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে নদীতে একটি সেতু পরিদর্শনে ছিলাম। কয়েক মাস আগে এই নাহিদ আমাকেসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। এখনো সেই আঘাতের ক্ষত শুকায়নি। এরপরও সে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করে। এসব সহ্য হয়নি বলেই এ হামলা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্ল্যাহ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতের পরিবারের কাছ থেকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
