Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ

ভেরিফিকেশনে বাদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন রাবি শিক্ষার্থী জাহিদ, ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

ভেরিফিকেশনে বাদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন রাবি শিক্ষার্থী জাহিদ, ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া মো. জাহিদ হাসান। ফাইল ছবি

Advertisement

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে মেধাক্রমে ৫৪তম হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় আবেদন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনের পর চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

জাহিদের দাবি, তার বা পরিবারের কারও কোনো মামলা কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও ভেরিফিকেশনের কারণ দেখিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে নির্বাচিত হওয়ার খবরে আনন্দিত বাবা-মা এখন ভেঙে পড়েছেন। মায়ের কান্না থামছেই না।

জাহিদ হাসান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২৮ বছর বয়সি জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে পিরোজপুর জেলা থেকে নির্বাচিত ৮৩ জনের তালিকায় মেধাক্রমে ৫৪তম ছিলেন জাহিদ। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

জাহিদ যুগান্তরকে বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি যখন রেজাল্ট দেয়, তখন আব্বু হাসপাতালে ছিলেন। তাকে যখন জানাই, আব্বু অনেক খুশি হয়েছিলেন এবং অনেকটা সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। আমার সাফল্যে আমার বাবা-মা যে এত খুশি হয়েছিলেন, সেটা বলে বোঝাতে পারব না। 

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রথম দফায় পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং দ্বিতীয় দফায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়। কিন্তু সম্প্রতি চূড়ান্ত নিয়োগপত্রের তালিকা প্রকাশের পর দেখি সেখানে আমার নাম নেই। এই খবর শোনানোর পর থেকে আব্বা পুরোপুরি স্তব্ধ। আর মায়ের কান্না থামছেই না। বারবার শুধু জিজ্ঞেস করছেন—তোর নিয়োগটা হবে?

ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার কারণ নিয়ে জাহিদ বলেন, আমার নিজের বা পরিবারের, বিশেষ করে বাবার সরাসরি কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। কোনো মামলাও নেই। পরিবারের সবাই সাধারণ জীবনযাপন করেন। অথচ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে অহেতুক আমাকে বাদ দেওয়া হলো। আমি কোন কারণে বাদ পড়েছি, এটা জানার অধিকার তো আমার আছে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, জীবনে ২০ বছরের বেশি পড়াশোনা করে, সর্বোচ্চ মেধা ও প্রচেষ্টা দিয়ে এ পর্যন্ত আসার পর যদি এভাবে বাদ পড়তে হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষার মূল্যটা থাকল কোথায়?

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম