Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, নার্স বিথীর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

Icon

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, নার্স বিথীর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, নার্স বিথীর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

Advertisement

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে গুরুতর অসুস্থ নার্স বিথী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়ায় বিথীর স্বামীর বাড়িতে যান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।

ইউএনও অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনও বিথীর চার মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন। বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামের হাতে নগদ অর্থসহ শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি বিথীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটের মধ্যে গজ রেখেই সেলাই করে দেন। কয়েক দিন পর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গজের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়। এরপর থেকে গত চার মাস ধরে তার অবস্থা খুবই খারাপ। দিন দিন সে আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থাভাবে আমি তার উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে দেশের অনেক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। আজকে আমাদের ইউএনও স্যার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীর খোঁজখবর নিয়েছেন। কিছুটা সহায়তা করেছেন। মা থাকতেও আমার মা-হারা সন্তানকে কোলে তুলে নিয়েছেন। এতে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি সরকারের কাছে তার স্ত্রীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বিথীর মতো একজন নার্সের সঙ্গে যদি ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে!

তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ বিথীর স্বামীর হাতে নগদ অর্থ এবং তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিথীর পরিবারের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। অপারেশনে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দ যুক্ত ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। কয়েক দিন পর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পেটে গজের উপস্থিতি শনাক্ত হয় বলে পরিবারের দাবি। পরে তার দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ৬১ কেজি ওজনের সুস্থ-স্বাভাবিক বিথীর ওজন কমে এখন ৩৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। ফলে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।

কয়েক দিন আগে হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই বিথী তার বর্তমান পরিস্থিতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে ‘ফমেক হাসপাতালে রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই, দ্বিতীয়বার অপারেশন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার

ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার

কুতুবদিয়ায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ

কুতুবদিয়ায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ

মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা

মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা

ঝটিকা মিছিলের পরদিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ঝটিকা মিছিলের পরদিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম