মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই মুখপাত্র
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনে টানা প্রায় ৩৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্তি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্তি পেলেও তাদের ক্যাম্পাস ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হলেও অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন। বাইরে যেতে না পারায় তারা কলেজের দোতলায় দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এদিকে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে গড়ায়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক এবং ৬-৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হন।
সোমবার রাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস ছাড়তে দেননি। এর আগে সোমবার রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে এতে অচলাবস্থার সমাধান হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই মুখপাত্র—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সাল বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করা অথবা কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির আদেশও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না বলেও তারা জানান।
এদিকে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা দিয়ে রাখায় প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে আছে। শিক্ষক-কর্মকর্তারা এখনো ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তারা কলেজটিকে অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এ দাবিতে তারা ক্লাশ বর্জন, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
এছাড়া সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিএসসি সম্পন্ন করা এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকা একজন শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদায়নেরও প্রতিবাদ করছেন শিক্ষার্থীরা।
