গভীর রাতে মাদককারবারির বাসায় কেন গেলেন যুবদল নেতা-বন কর্মকর্তা
চরফ্যাশন প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
দক্ষিণ আইচা থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক যুবদল নেতা ও এক বন কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এক চিহ্নিত মাদককারবারির বাসা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
তারা হলেন- দক্ষিণ আইচা থানা যুবদল নেতা ইব্রাহিম নয়ন এবং বন কর্মকর্তা রুমেল রনি।
গভীর রাতে তারা মাদককারবারির বাসায় কেন গেলেন- তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
আটক ব্যক্তিরা মাদক সেবন করেছেন কিনা- তা নিশ্চিত হতে তাদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. আহসান কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গভীর রাতে স্থানীয় মাদককারবারি জসিমের বাসায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেখান থেকে যুবদল নেতা ইব্রাহিম নয়ন ও বন কর্মকর্তা রুমেল রনিকে আটক করা হয়। তবে মূল মাদককারবারি জসিম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে অভিযানের সময় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা তথা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সহযোগিতায় মূল মাদক কারবারি জসিম, মাসুদ জমাদ্দার ও আব্বাসসহ তিনজন পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. আহসান কবির জানান, আটক দুজনই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা ও মাদক সেবনের প্রমাণ নিশ্চিত করতে আটক যুবদল নেতা ইব্রাহিম নয়ন ও বন কর্মকর্তা রুমেল রনি দুজনেরই ডোপ টেস্ট করানো হবে।
ওসি আরও বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এলে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে গভীর রাতে মাদক কারবারির আস্তানায় একজন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতি এবং আটকের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনমনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
