পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ
Advertisement
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিনাজপুরের হিলিতে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক গৃহবধূকে তিন দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রুহুল আমিন ও শুকুর আলী নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম।
এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে হিলির পালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হিলির পালপাড়া এলাকার মৃত খালেক মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমিন এবং একই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শুকুর আলীক গ্রেফতার করা হয়।
হাকিমপুর থানার ওসি বাদশা আলম জানান, ভুক্তভোগী ওই নারীর কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন রুহুল আমিন। পরবর্তীতে ধারের টাকা ফেরত চাইলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন রুহুল আমিন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই নারীকে চেতনানাশক মিশ্রিত জুস খাইয়ে অচেতন করে ফেলে অভিযুক্তরা। এরপর বাড়ির পাশে নিয়ে শুকুর, ফেরদৌস ও মোস্তাকিম নামের যুবকরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। জ্ঞান ফিরে এলে ভুক্তভোগী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টানা তিন দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
ওই গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতনের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা রুহুল আমিনের বাড়িতে যান। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাতেনাতে আটক করলেও বাকি দুজন কৌশলে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের মারধর শুরু করলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
