ঝিনাইদহে গৃহবধূর লাশ নিয়ে স্বজনদের মানববন্ধন: হত্যার অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহে গৃহবধূর লাশ নিয়ে স্বজনদের মানববন্ধন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এক সন্তানের জননী শিখা খাতুনের (২২) ঝুলন্ত লাশ নিয়ে বিচার ও মামলা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার কোরাপাড়া গ্রামের গ্রিলমিস্ত্রি মুকুলের ঘর থেকে শিখার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত শিখা সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের ধর্মতলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার প্রথম স্বামীর ঘরে পাঁচ বছর বয়সি এক ছেলেসন্তান রয়েছে।
মৃত শিখার মামা তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শিখাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশের এমন গাফিলতির প্রতিবাদেই আমরা লাশ নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।
শিখার মায়েরও দাবি, মুকুলই তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরাপাড়া গ্রামের হাকিম মেম্বারের ছেলে মুকুলের সঙ্গে ঢাকা থেকে বাসে বাড়ি ফেরার পথে শিখার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুকুল প্রায়ই ‘ভাগনি’ পরিচয় দিয়ে শিখাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসত। গত রোববার রাতেও মুকুল ফোন করে শিখাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার রাতে ওই ঘরের আড়ার সঙ্গে শিখার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই মুকুল পলাতক রয়েছে।
তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কোরাপাড়া গ্রামের মুকুলের ঘরের ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে শিখার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতেই মৃতের বাবা শহিদুল ইসলামের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিললে তা নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
