সাবরেজিস্ট্রারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, আধঘণ্টা পর যা ঘটল
Advertisement
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
সাবরেজিস্ট্রারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনা সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর দিনদুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তবে সহকর্মী, দলিল লেখক ও পুলিশের তল্লাশি শুরুর প্রায় আধঘণ্টা পর তিনি অক্ষত অবস্থায় নিজেই অফিসে ফিরে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে দুপুরের খাবারের জন্য অফিস থেকে বের হন তন্ময় কুমার মণ্ডল। কার্যালয়ের প্রধান ফটক পার হতেই ৪-৫ জনের একটি দল তাকে জোরপূর্বক একটি রিকশায় তুলে নেয়।
সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তারা দ্রুত পিছু নেন। পথিমধ্যে এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, রিকশা থেকে নামিয়ে তন্ময় কুমারকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে রূপসা নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে খুলনার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী লিটনের মতো দেখতে একজনকে শনাক্ত করার দাবি ওঠে। কথিত সন্ত্রাসী লিটন নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, অফিস থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে বাইরে হট্টগোল শুনে সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে খুলনা সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত শুরু করে।
এর প্রায় ৩০-৪০ মিনিট পর কোনো ধরনের আঘাত ছাড়াই নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছি। তাদের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো দাবি বা হুমকি ছিল না। একটি আটকে থাকা দলিলের ঝামেলা মেটাতেই কয়েকজন লোক আমাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমে বিষয়টি অস্বাভাবিক ও ভীতিপ্রদ মনে হলেও পরে বুঝতে পারি, দলিলের নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতেই তারা এমনটি করেছিল।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। ফিরে আসার পর সাবরেজিস্ট্রার জানিয়েছেন- তাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন বা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়নি; সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্র দেখা যায়নি। তবে প্রকাশ্য দিবালোকে কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার মতো এ ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ বা অন্য কোনো চাপ রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
