‘নতুন জীবনের’ খোঁজে পালায় ৪ স্কুলছাত্রী!
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়া ও টিকটকের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা পালিয়েছিল বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে তারা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলেও ক্লাশে উপস্থিত হয়নি। বিকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে নামে। পরবর্তীতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং সারা দেশের সব থানায় ছবিসহ বার্তা পাঠায়। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট এলাকা থেকে ওই চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না এবং নিয়মিত মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয়, জিসান, সুজন, মিনহাজ, মোফাজ্জল ও শোয়েব নামের কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে ওই তরুণদের প্রকৃত পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে তারা কিছুই জানত না।
পুলিশ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মোহ ও বিভ্রান্তিতে পড়ে তারা নিজেরাই উপার্জন করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা এবং পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরুর পরিকল্পনা করে। সেই উদ্দেশ্যে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে তারা বের হয়। বাসা থেকে বেরিয়ে কুমিল্লার কান্দিরপাড় বাহার মার্কেটে মাইশার একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। পরে ঢাকায় পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় ওই দিনই এক শিক্ষার্থীর দাদার বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চলে যায়।
পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার এবং কান্দিরপাড় বাহার মার্কেট থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে।
কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, পারিবারিক সচেতনতার অভাবে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। সন্তানদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
