সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
Advertisement
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের নেতারা।
অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক এসব দাবি জানান।
এ সময় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) আলী আবিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠনের প্রধান বিলাল হোসেন মানিক, কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশনের নেতা জামাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে কাছেই বন্দুকধারী দুই যুবকের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
ঘটনাস্থল দেখিয়ে তিনি বলেন, এই জায়গাতেই সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে তার রক্তের দাগ এখনো রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এখানেই পড়ে যান। একজন সাংবাদিককে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার চাই এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে ১৫ দিনে মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ২০২৫ সালে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং গাজীপুরের প্রশাসনের তৎপরতার ফলে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার এবং অভিযোগপত্র দাখিলের নজির তৈরি হয়েছিল।
গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছিল, নেত্রকোনাতেও সেই তৎপরতা অব্যাহত দেখতে চাই। সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে আট আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে যাচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে যদি নেত্রকোনা পুলিশ প্রশাসন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারে, তাহলে সারা দেশের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। যতক্ষণ পর্যন্ত জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করা না হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমারা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে যেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বছরের পর বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিবাদে জেগে উঠেছিলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে দেশের সব সাংবাদিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
