লালনের দর্শন সম্প্রীতি ও মানবতার পথ দেখায়: খাদ্যমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক নন। তিনি মানবতার সাধক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক এবং সম্প্রীতির এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তার দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, মানুষের মর্যাদা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
এসময় খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন লালন সাঁই। তার দর্শন আমাদের শেখায়, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিভাজন নয়, সম্প্রীতি এবং ভেদাভেদ নয়, মানুষের মিলনই হোক সমাজের মূল ভিত্তি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের পৃথিবীতে লালন সাঁইয়ের দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলিত হবে না, ধর্মের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। আমরা চাই সাম্যের সমাজ, সম্প্রীতির সমাজ ও মানবিক মর্যাদার সমাজ।’
তিনি বলেন, ‘মত ও পথ আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার প্রশ্নে আমরা সবাই এক। ভেদাভেদ নয়, সম্প্রীতি; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিভাজন নয়, মানুষের মিলন—লালন সাঁইয়ের দর্শন আমাদের সেই পথই দেখায়।
লালনসংগীতের তাৎপর্য তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা বলেন, লালনের গান শুধু বিনোদন নয়। এটি আত্মজিজ্ঞাসার গান, আত্মপরিচয়ের গান, মানবমুক্তির গান। তার সুরে মিশে আছে বাংলার মাটির গন্ধ, তার কথায় ফুটে উঠেছে জীবনের গভীর দর্শন। তার সাধনায় প্রকাশ পেয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার শক্তি।
তিনি আরও বলেন, লালনের অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার জীবনদর্শন পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বাংলার বাউলসংগীত ও লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করা আমাদের অঙ্গীকার। লালন সাঁই আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান, দর্শন ও মানবতার বাণী মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। যত দিন মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, মুক্তির পথ খুঁজবে এবং মানবতার চর্চা করবে, তত দিন লালন সাঁই মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।
বর্তমান সরকারের সাংস্কৃতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও পরিচিত করে তোলা। কারণ, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর নয়, উন্নয়ন আমাদের সংস্কৃতিরও। শেকড়কে ভুলে নয়, শেকড়কে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতিতেও মানুষের কল্যাণ, মানুষের অধিকার এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরাও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে চাই আমাদের কাজের মাধ্যমে, আমাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে।
নিজের শেকড় ও মানিকগঞ্জের মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘আমি মানিকগঞ্জের সন্তান। এই মাটি, এই মানুষ, এই জনপদ আমার অস্তিত্বের অংশ। আমার বাবা আমৃত্যু মানিকগঞ্জের মানুষের পাশে থেকেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, মানুষের ভালোবাসাকে মূল্য দিয়েছেন। তার সেই পথচলা আমার জীবনেও প্রেরণা।’
তিনি বলেন, আমি যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে যাব। মানুষের পাশে থাকব, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। কারণ, আমার কাছে মানিকগঞ্জ শুধু একটি জেলার নাম নয়। এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার শেকড়, আমার স্মৃতি, আমার দায়বদ্ধতা, আমার ভালোবাসা। এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা আমার কাছে অত্যন্ত আপন। মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষই আমার এক পৃথিবী। এই মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জেলা কমিটির সদস্য-সচিব শামীম বিশ্বাস।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী উম্মে সুমাইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাসাস সিংগাইর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জাসাসের শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক জুঁইরিরা ইসলাম নুপুর।
