প্রেমের টানে মাদারীপুরে চীনা যুবক, মুসলিম হয়ে করতে চান বিয়ে
Advertisement
টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
চীনা যুবককে একনজর দেখতে তার প্রেমিকার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অচেনা-অজানা দুজনের পরিচয় মাত্র চার মাসের। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। আর সেই প্রেমের টানে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশের মাদারীপুরে এসেছেন এক যুবক। চীনা যুবককে একনজর দেখতে তার প্রেমিকার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামে।
জানা যায়, চার মাস আগে চাপাতলী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে হাফিজা আক্তারের সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের যুবক ওয়াং এরলিংয়ের। এরপর নিয়মিত তাদের মধ্যে চ্যাটিং চলতে থাকে। ধীরে ধীরে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে তা গড়ায় প্রেমে।
অবশেষে প্রেমিকার টানে গত ১৫ অক্টোবর চীন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন ওয়াং এরলিং। পরে হাফিজার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে প্রেমিকার বোনের বাসায় ওঠেন তিনি। পরদিন তাকে হাফিজার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে হাফিজার বাড়িতে যায় থানা-পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন। এ সময় চীনা যুবকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সব তথ্য সঠিক থাকলে শিগগিরই হাফিজাকে বিয়ে করতে চান ওয়াং এরলিং। এ জন্য মুসলিম হতেও তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
হাফিজার বাবা কৃষক মোস্তফা বেপারীর ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। অন্যদিকে, চীনের একটি ওয়ার্কশপের দোকানে কাজ করেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং এরলিং।
হাফিজা আক্তার বলেন, ওয়াং এরলিংয়ের ছবি দেখে আমার ভালো লাগে। পরে আমাদের মধ্যে প্রেম হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা দুজন বিয়ে করতে চাই। ওয়াং এরলিং বলেছে, আমাকে চীনে নিয়ে যাবে। আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী।
ওয়াং এরলিং বলেন, আমার মুসলিম হতে আপত্তি নেই। আমি আসার আগে আমার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি। বিয়ে করে বউ নিয়েই নিজ দেশে ফিরতে চাই।
হাফিজা আক্তারের বাবা মোস্তফা বেপারী বলেন, আমার মেয়ে যেখানে সুখে থাকবে, আমি সেখানেই ওর বিয়ে দেব। যা কিছু হবে, সব সামাজিকতা রক্ষা করেই হবে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা যুবকের আসার খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়িতে যায় পুলিশ। যুবকটি চীন থেকে এসেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। কলেজপড়ুয়া মেয়েটি চীনা যুবককে বিয়ে করবে কি না, সেটি তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।

