Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

ফাইল ছবি

Advertisement

বিবাহ মানবজীবনের একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিয়ে কেবল একটি চুক্তি নয়; বরং এটি ইবাদত, দায়িত্ববোধ এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে পরিবার এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে অনীহা বা মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী শারীরিক সম্পর্কে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে স্ত্রীর করণীয় কী? 

উত্তরে ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বামী কোনো শরিয়তি ওজর ছাড়া স্ত্রীকে সম্পূর্ণরূপে সহবাস থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ রয়েছে- স্ত্রীর সঙ্গে মাঝে মাঝে সহবাস করা স্বামীর ওপর দিয়ানাতের দিক থেকে ওয়াজিব। তাই স্বামী অযৌক্তিকভাবে এ অধিকার থেকে স্ত্রীকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী তার কাছে দাম্পত্য অধিকার দাবি করতে পারবেন। প্রয়োজনে শরিয়তি কর্তৃপক্ষের শরণাপন্নও হতে পারবেন।

হানাফি ফকিহদের মধ্যে বিচারিকভাবে সহবাসে বাধ্য করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল ফকিহের মতে, অন্তত একবার সহবাসে বাধ্য করা যায়; পরবর্তী সময়ে সহবাস করা দিয়ানাতের দিক থেকে ওয়াজিব হলেও বিচারিকভাবে বাধ্যতামূলক নয়। অন্য একদল ফকিহের মতে, অতিরিক্ত সহবাসও বিচারিকভাবে বাধ্যতামূলক হতে পারে।

কুরআন-হাদিসে দাম্পত্য অধিকারের গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا

অর্থ: ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে হতে পারে, তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)

এ আয়াত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সদাচরণ ও উত্তম দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। স্ত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এ নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

অর্থ: ‘অতঃপর হয় বিধিমতো রেখে দেওয়া, অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেওয়া।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২৯)

অর্থাৎ স্ত্রীকে এমন অবস্থায় আটকে রাখা উচিত নয়, যেখানে স্বামী তার দাম্পত্য অধিকারও পূরণ করবেন না, আবার বিচ্ছেদের পথও উন্মুক্ত করবেন না।

সুরা আল-বাকারার ২২৬–২২৭ নম্বর আয়াতে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস না করার শপথ বা ‘ইলা’ সম্পর্কে চার মাসের সময়সীমা ও পরবর্তী করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই তোমার স্ত্রীরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।’ (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস: ১৯৬৮)

হানাফি ফিকহের বক্তব্য

‘ফাতহুল কাদির’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, স্ত্রীকে সম্পূর্ণরূপে সহবাস থেকে বিরত রাখা স্বামীর জন্য বৈধ নয়। ফকিহদের মতে, স্ত্রীর সঙ্গে মাঝে মাঝে সহবাস করা দিয়ানাতের দিক থেকে ওয়াজিব। তবে বিচারিকভাবে বাধ্য করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

‘রদ্দুল মুহতার’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সেখানে ‘বাদায়েউস সানায়ে’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, স্ত্রী স্বামীর কাছে সহবাস দাবি করতে পারেন। কারণ দাম্পত্য সম্পর্কে সহবাসের বৈধতা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়। স্ত্রী দাবি করলে স্বামীর দায়িত্ব তা পূরণ করা। তবে বিচারিকভাবে কতবার সহবাসে বাধ্য করা যাবে, সে বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

স্ত্রীর করণীয়

প্রিয় প্রশ্নকারী, এ ধরনের সমস্যার সমাধান কেবল আদালতে গিয়ে অধিকার আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথমে স্বামীর সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে অনীহার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতা, যৌন দুর্বলতা, মানসিক চাপ, দাম্পত্য কলহ কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসক, অভিজ্ঞ আলেম, বিশ্বস্ত অভিভাবক বা দাম্পত্য কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

বারবার আলোচনা ও মীমাংসার চেষ্টা সত্ত্বেও স্বামী যদি কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর দাম্পত্য অধিকার উপেক্ষা করতে থাকেন এবং সংসার চালানো স্ত্রীর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে, তাহলে তিনি খুলার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শরয়ি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বামীর দায়িত্ব

স্বামীকে মনে রাখতে হবে, স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা ও দাম্পত্য অধিকার পূরণ করাও বৈবাহিক দায়িত্বের অংশ। এ অধিকার দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা কিংবা স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত। কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনা, চিকিৎসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। স্ত্রীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া সমাধান নয়।

একই সঙ্গে স্ত্রীর মনে রাখতে হবে, স্বামীর অবহেলা পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর অনুমতি দেয় না। দাম্পত্য অধিকার অপূর্ণ থাকলে শরিয়তসম্মত ও বৈধ পথেই সমাধান খুঁজতে হবে।

উভয় পরিবারের দায়িত্ব

এ ধরনের পরিস্থিতিতে উভয় পরিবারের উচিত, কাউকে দীর্ঘদিন কষ্টের মধ্যে আটকে না রেখে আন্তরিক আলোচনা ও ন্যায়সংগত মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া। প্রয়োজনে বিজ্ঞ আলেমের সহায়তা নিতে হবে। কোনোভাবেই দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব না হলে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিচ্ছেদের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা সবার দাম্পত্য জীবন সুখময় করুন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

সূত্র: মুসলিম বাংলা

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ক্রেডিট কার্ড ও কিস্তিতে পণ্য কেনা কি জায়েজ?

ক্রেডিট কার্ড ও কিস্তিতে পণ্য কেনা কি জায়েজ?

এনজিওর সাহায্য গ্রহণে শরিয়তের বিধান কী?

এনজিওর সাহায্য গ্রহণে শরিয়তের বিধান কী?

শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন, যা বললেন অভিনেত্রী

শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন, যা বললেন অভিনেত্রী

বিয়ের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান, কারণ কী?

বিয়ের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান, কারণ কী?

‘বিয়ে’ শব্দটা শুনলে অবিবাহিতদের মনে আনন্দের অনুভূতি হয় কেন?

‘বিয়ে’ শব্দটা শুনলে অবিবাহিতদের মনে আনন্দের অনুভূতি হয় কেন?

রেজিস্ট্রি ছাড়াও কি ছবি ও সাক্ষ্যে বিয়ে প্রমাণ করা যায়?

রেজিস্ট্রি ছাড়াও কি ছবি ও সাক্ষ্যে বিয়ে প্রমাণ করা যায়?

আরও পড়ুন

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

ক্রেডিট কার্ড ও কিস্তিতে পণ্য কেনা কি জায়েজ?

ক্রেডিট কার্ড ও কিস্তিতে পণ্য কেনা কি জায়েজ?

হাদিসে বর্ণিত বিভ্রান্ত গোষ্ঠী খারেজি কারা

হাদিসে বর্ণিত বিভ্রান্ত গোষ্ঠী খারেজি কারা

এনজিওর সাহায্য গ্রহণে শরিয়তের বিধান কী?

এনজিওর সাহায্য গ্রহণে শরিয়তের বিধান কী?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম