জেলেদের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ইলিশ প্রজনন আহরণে নিষিদ্ধ জেলেদের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিবন্ধনধারী জেলেদের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্যরা চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন।
শতাধিক নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলেদের তালিকায় নাম না থাকার অযুহাত দেখিয়ে তাদের চাল দেয়া হয়নি। তারা চাল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে গেছেন। মঙ্গলবার এমন অভিযোগ করেছেন জেলেরা। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।
জানা গেছে, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকার, আহরণে ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। এ সময়ে জেলেদের কষ্ট লাঘবে সরকার মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করেছে। প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়। আমতলী উপজেলার সাত হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। ওই সাত হাজার জেলের জন্যই সরকার চাল বরাদ্দ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের এক হাজার ৬০০ জেলের জন্য ৪০ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। ওই চাল ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্যরা সকল জেলের মাঝে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ জেলেদের। শতাধিক নিবন্ধিত জেলে কার্ডসহ চাল নিতে এসে ফিরে গেছেন এমন অভিযোগ জালাল, খলিল ও জামাল গাজীর।
আরও জানা গেছে, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে বরাদ্দ ৪০ মেট্রিক টন চাল ছাড় না করে ৩৪ মেট্টিক টন চাল ছাড় করে নিয়েছেন। ছয় মেট্রিক টন চাল জেলেদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। সোমবার ওই ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণ শেষ হয়েছে। জেলেদের মাঝে বিতরণকৃত তালিকায় স্বাক্ষর ও টিপসই ধরে যাচাই করলেই চাল আত্মসাতের রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে জানান জেলেরা।
জেলে জালাল বলেন, জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল দেয়নি। তালিকায় নাম না থাকার অযুহাত দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শতাধিক জেলে কার্ড নিয়ে এসে ফিরে গেছেন। তাদের নাকি জেলে তালিকায় নাম নেই।
জেলে খলিল বলেন, ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলেদের ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্য খবির হোসেন চাল দেয়নি। তারা বলে দিয়েছেন নিবন্ধন থাকলেও তালিকায় নাম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তার।
জেলে জামাল গাজী বলেন, নিবন্ধিত জেলে হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চাল দেওয়া হয়নি। আমার নাকি তালিকায় নাম নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নাশির মাল নামের একজন অভিযোগ করেন ৩ নং ওয়ার্ডে অন্তত ৩০ জন নিবন্ধিত জেলে চাল নিতে এসে ফিরে গেছেন। তালিকায় নাকি তাদের নাম নেই। তিনি আরও বলেন, সকল নিবন্ধিত জেলেদের নামে চাল বরাদ্দ হলে, এই ৩০ জন জেলের চাল গেল কোথায়? ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বশির হাওলাদার বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২৭০ জন জেলে তালিকার সকলকে চাল দেওয়া হয়েছে। কোন জেলেকে খালি হাতে ফিরতে দেওয়া হয়নি।
আমতলী খাদ্য গুদামের চাল বিতরণ কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৪ মেট্টিক টন চাল ছাড় করে নিয়েছেন। বাকি চাল নেয়নি। গোডাউনে রেখে গেছেন।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সকল জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমতলী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (এলএসডি) মো. তাইফুর রহমান বলেন, আড়পাঙ্গশিয়া ইউনিয়নে কত মেট্টিক টন চাল ছাড় করে নিয়েছেন তা আমার জানা নেই, জেনে বলতে হবে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. রাসেল বলেন, সকল জেলেদের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল পাইনি এমন কারো অভিযোগ পাইনি।
