ডিমের আশায় মাছ কাটতেই বেরোল নাটবল্টু-লোহা!
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ডিমের আশায় মাছ কাটতেই বেরোল নাটবল্টু-লোহা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাছের পেটে ডিম পাবেন- এমনটাই ভেবেছিলেন গৃহিণী সুইটি আক্তার; কিন্তু মাছ কাটতেই বেরিয়ে এলো একটি নাট-বল্টু ও দুটি মসৃণ লোহার খণ্ড।
ঘটনাটি দেখে বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি মাছের ওজন বাড়াতে কেউ এমন কৌশল নিয়েছেন কিনা, সেই সন্দেহও তৈরি হয় তার মনে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকার দোহার উপজেলার থানার মোড় মাছবাজার থেকে কেনা একটি আইর মাছের পেটে এসব লোহার বস্তু পাওয়া যায়। পরে মাছ ও লোহার খণ্ডগুলো নিয়ে দোহার থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন সুইটি আক্তার।
সুইটি আক্তার দোহারের বটিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, রোববার সকালে থানার মোড় মাছবাজার থেকে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি আইর মাছ কেনেন। মাছটি কাটার সময় পেটের ভেতর থেকে একটি ছোট নাট-বল্টু ও দুটি ছোট লোহার খণ্ড বেরিয়ে আসে। তিনটি বস্তুর ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম।
সুইটি আক্তার বলেন, ‘ভেবেছিলাম মাছের পেট থেকে বড় বড় ডিম বের হবে; কিন্তু বের হলো লোহার খণ্ড! মাছের পেটে এগুলো কিভাবে এলো, তা বুঝতে পারছি না।’
ঘটনাটি জানার পর দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন উপপরিদর্শক (এসআই) আশিকুরকে। পরে তিনি মাছ বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
অভিযুক্ত মাছ বিক্রেতা আকাশ প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বান্দুরা বাজারের নিখিলের আড়ত থেকে মাছটি কিনে থানার মোড় বাজারে বিক্রি করেছেন। মাছের পেটে লোহার বস্তু থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্রেতাকে মাছের পুরো দাম ফেরত দিয়েছেন।
পরে মুচলেকা নিয়ে বাজার কমিটির জিম্মায় মাছ বিক্রেতা আকাশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে বান্দুরা বাজারের আড়তদার নিখিলও মাছের পেটে লোহা ভরার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে রাঙামাটি থেকে আনা আইর মাছ বিক্রি করছেন। তার ধারণা, রাক্ষুসে স্বভাবের মাছটি খাবার ভেবে যে কোনো বস্তু গিলে ফেলতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে থানার মোড় বাজারের নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ক্রেতা করিম বেপারী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। এটা মাছের স্বাভাবিক আচরণ, নাকি ওজন বাড়ানোর জন্য কেউ এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে- তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
মাছের পেটে লোহার বস্তুগুলো কিভাবে এলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাছের ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বস্তু ঢুকিয়েছেন কিনা, নাকি মাছটি স্বাভাবিকভাবে সেগুলো গিলে ফেলেছিল- তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
