Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

নিজহাতে তৈরি ‘জিয়াবাড়ি’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান কাওছার

Advertisement

Icon

মো. আ. রহমান শিপন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

নিজহাতে তৈরি ‘জিয়াবাড়ি’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান কাওছার

নিজহাতে তৈরি ‘জিয়াবাড়ি’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান কাওছার

Advertisement

সাধারণ কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড আর কাগজের টুকরো। অথচ নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সেই সাধারণ উপকরণগুলোই রূপ নিয়েছে এক অসাধারণ শিল্পকর্মে। দেখতে অবিকল বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ির’ মতোই।

ইউটিউবে ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুণ মো. কাওছার আলী। মিনি আর্ট বা ক্ষুদ্র শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে আত্মনির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এই তরুণ এবার তার তৈরি সেই শৈল্পিক ‘জিয়াবাড়িটি’ সশরীরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিতে চান।

এর আগে গ্রামীণ বসতবাড়ি, চায়ের দোকান, মুদি দোকান ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন মিনি আর্ট তৈরি করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। তবে এবার ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই মেধাবী তরুণ।

শখ থেকে আত্মনির্ভরতার গল্প

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামের ছেলে কাওছার আলী। তিনি রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘরের এক কোণে শখের বসে শুরু করেছিলেন মিনি আর্টের কাজ। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার তৈরি গ্রামীণ জীবন ও নানা স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপের ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে প্রতিটি মিনি আর্ট বিক্রি করে কিছুটা আয় করেন। এই আয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করছেন।

ইউটিউব দেখে মাসব্যাপী সাধনায় ‘জিয়াবাড়ি’ নির্মাণ

নিজের এ সফলতার ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস আগে ইউটিউবে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে অবস্থিত ঐতিহাসিক জিয়া পরিবারের পৈতৃক নিবাসের ছবি দেখেন কাওছার। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। ভাবেন উপকরণ দিয়েই তিনি ফুটিয়ে তুলবেন এই বাড়িটির অবয়ব।

এরপর নিজের জমানো টাকা ও বাবার সহায়তায় কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড, কাগজ, প্লাস্টিক, আঠা ও রং সংগ্রহ করে শুরু হয় তার নিরন্তর সাধনা। দীর্ঘ এক মাসের নিখুঁত পরিশ্রমে তৈরি হয় সম্পূর্ণ দৃষ্টিনন্দন ও জীবন্ত এক ‘ক্ষুদ্র জিয়াবাড়ি’। বাড়িটির প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তিনি।

কাওছারের ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

কাওছারের হাতে তৈরি এই ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি একনজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। কেউ খুঁটিয়ে দেখছেন এর কারুকার্য, কেউ আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে জিয়াবাড়ি তুলে দেওয়ার প্রত্যাশা

নিজের নিপুণ হাতে তৈরি এই ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম নিয়ে কাওছার আলীর এখন সবচেয়ে বড় ও অন্তরের গভীর থেকে চাওয়া এক স্বপ্ন— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করা এবং সশরীরে তার হাতে এই ক্ষুদ্র ‘জিয়াবাড়িটি’ উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া।

আকুতি প্রকাশ করে তরুণ শিল্পী কাওছার আলী বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ও ইচ্ছা হলো, আমার নিজ হাতে তৈরি এই জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র শিল্পকর্মটি আমি সশরীরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে একটু সময় দেন, তবে আমার এই দীর্ঘ পরিশ্রম এবং দেশপ্রেমের ক্ষুদ্র সৃষ্টিটি তার হাতে তুলে দিতে পারলে আমার শিল্পী জীবনের সব কষ্ট সার্থক হবে এবং এটিই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ছেলের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি বাবা নুরুল ইসলামও। কাপড়ের ব্যবসা করে সংসার চালালেও ছেলের শখ ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বাড়িটি তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি ছেলেকে দিয়েছেন উৎসাহ। পরিবারের সমর্থনও কাওছারের কাজটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কাওছারের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ছেলের শখের কাজ দেখে আমরা সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছি। আজ সে তার সৃজনশীলতা দিয়ে সবার নজর কেড়েছে। সরকারি ও উচ্চপর্যায়ের একটু পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক নেতাদের প্রশংসা ও সহযোগিতার আশ্বাস

তরুণ এই শিল্পীর এমন সৃজনশীল উদ্যোগের খবর পৌঁছে গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও। তরুণের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহামুদুল হাসান প্রামাণিক।

তিনি বলেন, কাওছার আলী আমাদের সুন্দরগঞ্জের এক মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ। সে নিখুঁতভাবে জিয়াবাড়ির যে ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও তাক লাগানোর মতো। তার এই শিল্পকর্ম আমাদের মুগ্ধ করেছে। দলের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমরা তার এই সৃজনশীলতাকে সাধুবাদ জানাই। তার এ সুন্দর স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ দিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার তৈরি শিল্পকর্মটি পৌঁছে দিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

শিল্পকর্মটি দেখে প্রশংসা করেছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। তিনি কাওছারের এই প্রতিভাকে সাধুবাদ জানিয়ে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তরুণ কাওছারের এই অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রমাণ করে—দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য আর সৃষ্টিশীলতা থাকলে সাধারণ উপকরণ দিয়েও অসাধারণ কিছু করা সম্ভব। সুন্দরগঞ্জের এই তরুণের স্বপ্ন এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছাক কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে, আর তার নিজহাতে তৈরি ঐতিহাসিক জিয়াবাড়িটি পৌঁছে যাক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে¬— এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সুধীমহলের।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নিরাপদে বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চান শিক্ষিকা

নিরাপদে বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চান শিক্ষিকা

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই

অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই

মশার কয়েল কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ, ছাই হলো টাকা-বসতঘর

মশার কয়েল কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ, ছাই হলো টাকা-বসতঘর

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় সাবেক ছাত্রদল নেতা

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় সাবেক ছাত্রদল নেতা

আরও পড়ুন

মওলানা ভাসানী একজন আইকনিক ক্যারেক্টার: শিক্ষামন্ত্রী

মওলানা ভাসানী একজন আইকনিক ক্যারেক্টার: শিক্ষামন্ত্রী

জামিন না পেয়ে আদালত চত্বরে স্লোগান, হামলায় মাথা ফাটল পুলিশের

জামিন না পেয়ে আদালত চত্বরে স্লোগান, হামলায় মাথা ফাটল পুলিশের

খালেদা জিয়ার নামে সিলেটে পার্ক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার নামে সিলেটে পার্ক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সংলাপ চললেও অবরুদ্ধ সাজেক, পাঁচ দাবির একটিতে আটকা সমঝোতা

সংলাপ চললেও অবরুদ্ধ সাজেক, পাঁচ দাবির একটিতে আটকা সমঝোতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম