চুল কাটার টাকা চাওয়ায় সেলুন ব্যবসায়ীকে হত্যা
Advertisement
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের ভালুকায় চুল কাটার বাকি টাকা চাওয়ায় রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে জামিরদিয়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২)।
নিহত রবীন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেম মিয়ার বাসায় ভাড়া থেকে সেলুনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রের সেলুনে গিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। হামলা থেকে বাঁচতে রবীন্দ্র দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়িটির উঠানে তাকে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুরোনো বিরোধের কথাও জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাদ্দামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে রবীন্দ্রের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। ঘটনার পর থেকে সাদ্দাম হোসেন পলাতক। পুলিশ এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করতে পারেনি।
নিহতের স্ত্রী সুচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার জন্য প্রায়ই তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা না দেওয়ার ঘটনাও ঘটত। সম্প্রতি টাকা পরিশোধ না করা এবং সাদ্দামকে চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর আগেও সাদ্দাম তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন সুচিত্রা। তার ভাষ্য, এসব বিরোধের কারণেই রবীন্দ্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
