ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: ‘এআই কারসাজি’ বলছেন ভূমি কর্মকর্তা
Advertisement
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহশিলদার) নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি, তার কাছে চাঁদা না পেয়ে একটি চক্র ডিজিটাল প্রযুক্তির (এআই) মাধ্যমে ভিডিওটি এডিট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে এটি ভাইরাল করেছে। এই ভিডিওটি হলো উপজেলার চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) অন্তরা দেবনাথের।
এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ওই তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অন্তরা দেবনাথ একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নগদ গ্রহণ করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
তবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অন্তরা দেবনাথ সরকার জানান, ঘটনার দিন এক সেবাগ্রহীতা অফিসে এসে তার জমির খাজনা (ভূমি কর) প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ওই ব্যক্তি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সেদিনই খাজনা পরিশোধ করে কর্মস্থলে ফেরার জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই সময় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে খাজনা পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
কর্মকর্তা তাকে জানান যে, বিদ্যুৎ না থাকায় এখন খাজনা নেওয়া সম্ভব নয় এবং গ্রাহক তার নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেই এটি পরিশোধ করতে পারেন।
তখন ওই সেবাগ্রহীতা নিজের সময়ের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, যেন বিদ্যুৎ এলে তিনি নিজের বিকাশ থেকে খাজনা পরিশোধ করে দেন। এই বলে তিনি কর্মকর্তার হাতে ৩ হাজার টাকা তুলে দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পর কর্মকর্তা জানতে পারেন যে ওই দিন চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এলাকায় বিদ্যুৎ আসতে সন্ধ্যা হবে। ফলে তিনি সেবাগ্রহীতাকে ডেকে তার ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেন এবং অন্য কোনো দিন আসার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, টাকা ফেরত দেওয়ার পরপরই আল আমিন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর অফিসে এসে কর্মকর্তাকে ওই টাকা নেওয়ার ভিডিও দেখান এবং বিষয়টি নিয়ে ‘সমঝোতায়’ আসার জন্য চাপ দেন। অন্যথায় এ ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আল আমিন একাধিকবার বিভিন্ন মুঠোফোনে কল দিয়ে বিভিন্নভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন (যা কর্মকর্তা রেকর্ড করে রেখেছেন)। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আল আমিন ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল করার হুমকি দেন। চাঁদা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিওটি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অন্তরা দেবনাথের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আমরা গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কানুনগোকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি।
তিনি বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি এআই কিনা এবং যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে সে ঘটনা কতটা সত্য তা বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং বিস্তারিত বলতে পারব।
