পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেফতার ৪
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতাররা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার শিবগঞ্জে বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) আতোয়ার রহমান।
গ্রেফতাররা হলেন, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ।
গ্রেফতার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
আতোয়ার রহমান বলেন, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার তার খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। বাপ্পি হোসেন বাসে করে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে বাসটি থামান।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর তার কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মোবাইল নিয়ে যান। পরে তাকে শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় খায়রুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রথমে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালানো হয়। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেফতার দুজনের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দিনাজপুরের হাকিমপুরে সাদিকুলের বসতবাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা এবং পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

--6ae1cf6ebcf3a.webp)