দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের সোর্স গ্রেফতার
Advertisement
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
অভিযুক্ত সাগর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১২ ও ১৪ বছর বয়সি দুই কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে সাগর নামে পুলিশের এক কথিত সোর্সকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সাগর, লামিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই দুই কিশোরী প্রতিবেশী। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় এক কিশোরীর মা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গত ১৬ অক্টোবর তারা বাড়ি ফিরে এলে স্বজনদের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ জানায়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কালীগঞ্জ বাজারে হারুন মিয়ার মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় সাগরের একটি নাচের স্কুলে দুই কিশোরীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে সাগর ও লামিয়া তাদের রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ২২ দিন আটকে রেখে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের সঙ্গে মিলে তাদের পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজছেন জানতে পেরে অভিযুক্তরা তাদের বসুন্ধরা এলাকায় নিয়ে যান। পরে দুই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের সেখানে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ওই দুই কিশোরী বসুন্ধরা থেকে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে কদমতলী এলাকায় সাগর অবস্থান করছেন এবং তাদের আবারও ধরে নিয়ে যেতে পারেন—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে না নেমে বিক্রমপুরে নানার বাড়িতে চলে যায়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভুক্তভোগী এক কিশোরীর মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় সাগর ও লামিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাগরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

