সিরাজদিখানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী
Advertisement
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। জনবহুল আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, চলতি মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা হলেও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা প্রকৃত চোরদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া, কাকালদি, মালখানগর, রশুনিয়া, কেয়াইন, রাজানগর, খারশুল, লতব্দী, মধ্যম শিয়ালদী, সুলতান বেপারীর বাড়ি, ইছাপুরা গ্রামের প্রবাসী বাচ্চু মজির বাড়ি, বালুচর ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় গত এক মাসে ২০ থেকে ২৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
চুরির উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া গ্রামে যমুনা গ্রুপের নিজস্ব আবাসিক প্রকল্পের মালামাল চুরি। স্থানীয় সাংবাদিক আমির হোসেন ঢালীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন, মো. জামাল খান, মো. আবদুল্লাহ ও জামাল দেওয়ানের দোকান ও বাসা থেকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা।
গত ২১ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া বকুলতলা গ্রামে যমুনা গ্রুপের আবাসিক প্রকল্পের ভেতর থেকে মালামাল চুরি হয়। ওই রাতেই ইছাপুরা থেকে আমির হোসেন ঢালীর দোকানের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
ভুক্তভোগী যমুনা গ্রুপের আবাসিক প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জহিরুল ইসলাম জানান, গত দুই মাসে তাদের প্রকল্পে পাঁচ থেকে সাতবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর চুরির সময় চোরদের ধাওয়া করলে তারা অটোরিকশায় করে মালামাল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়ার মুখে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় তারা। চোরদের একজনকে চিনতে পেরে তার নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
তিনি আরও জানান, বারবার চুরির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সিরাজদিখান বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, থানার সামনে উপজেলা শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায় চুরির ঘটনায় সবাই বিস্মিত। মনে হচ্ছে, চোরেরা পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গত এক দশকে দুই মাসে এত বেশি চুরির ঘটনা ঘটেনি। সিরাজদিখান উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন চুরি বেড়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চুরি ঠেকাতে পুলিশ পরিকল্পিত উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নিচ্ছে।
