জিপিএ-৫ পেয়েছে রাকিব, আনন্দের বদলে পরিবারে কান্না
Advertisement
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
রাকিবুল ইসলাম। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে রাকিবুল ইসলাম (১৮)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় কোচিং করছিল সে। ছেলের ভালো ফলাফলে পরিবারের আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ আর উপভোগ করা হলো না পরিবারের। এর আগেই মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যার শিকার হয় রাকিব। নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর নীলফামারীর ডিমলা থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ছেলের সাফল্যের খবরেও এখন পরিবারে আনন্দের বদলে চলছে শোকের মাতম।
রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এ খবরে আমাদের অনেক আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু তার ফলাফলের আনন্দটুকুও উপভোগ করতে পারলাম না।
মা জাহুরা বেগম বলেন, ছেলের ভালো ফলাফল নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, একদিন সে উচ্চশিক্ষা শেষ করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ফলাফল নিয়ে আনন্দ করার আগেই ছেলেকে হারালাম।
রাকিব টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে। সে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় রাকিব। এরপর অপরিচিত এক যুবক রাকিবের নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠায়। এ সময় ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা ধারদেনা ও সুদে টাকা সংগ্রহ করে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও ছেলেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এ ঘটনায় তদন্তে নেমে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাকিবের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাকিবের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মামুনের শুক্রাবাদের বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ঘাড়ে আঘাত পেয়ে রাকিবের মৃত্যু হয়। পরে লাশ কার্টনে ভরে মামুনের গ্রামের বাড়ি ডিমলায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও দুজনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের দিনে রাকিবের বাড়িতে এখন শুধুই শোক আর আহাজারি। যে ছেলেকে ঘিরে পরিবারের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল, সেই ছেলের নিথর দেহ ফিরেছে বাড়িতে।

-6ae6163e37609.jpg)