এইচএসসির ফলাফল
ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কলেজে পাশ করেনি কেউ, এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে রাব্বিল হোসেন (১৮) নামে এক কলেজছাত্র আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার খোলড়া বালিয়াপুকুর এলাকায় নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহত রাব্বিল ওই এলাকার রমজান আলীর ছেলে। পরিবারের ভাষ্য, পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে তিনি হতাশায় ভুগছিল।
রাব্বিলের বাবা রমজান আলী বলেন, আমার ছেলে পড়াশোনায় একটু অন্যমনস্ক হলেও এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে আমরা ভাবতেই পারিনি। পরীক্ষার ফলাফলের হতাশাই আমার বুক খালি করে দিল।
হরিপুর থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার কারণে ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং এর জেরে এই অপমৃত্যু ঘটে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার সালন্দর মহিলা কলেজ ও কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। এছাড়া বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোড়লহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রত্নাই বগুলাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একই অবস্থা পীরগঞ্জের একটিয়াপুর শহীদ সালাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাণীশংকৈলের ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগড় কলেজ ও রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের।
জেলায় এবার ৯ হাজার ৮৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৮ জন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, কাগজে-কলমে টিকে থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত নামসর্বস্ব এবং মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত। তবে এই সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর কাছে বিস্তারিত ও লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত দৃশ্যমান প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি, তার সিংহভাগই নন-এমপিওভুক্ত এবং শিক্ষাদানের ন্যূনতম অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এই বিপর্যয় কেন ঘটল, তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।

