Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

Advertisement

Icon

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

নাতনিকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন শেফালী বেগম। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নিজের স্বপ্ন পূরণে বয়স যে বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকার গৃহবধূ শেফালী বেগম। ৫২ বছর বয়সে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে তার এ সাফল্যের তথ্য জানা যায়। শেফালী ডোমার উপজেলার গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় শেফালীর। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাতালিকায় স্থান পেলেও পরিস্থিতির কারণে একসময় বই-খাতা ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। দীর্ঘ বিরতির পর ৪৮ বছর বয়সে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। স্বামী-সন্তানদের উৎসাহে চার বছর পর এইচএসসি পাশের মাধ্যমে পূরণ করলেন দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। 

শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম মজনু পেশায় কৃষক। তিনি জানান, পরিবারের জন্য শেফালী নিজের অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তার এই সাফল্যে পরিবারের সবাই গর্বিত। ভবিষ্যতেও পড়াশোনার পথে পাশে থাকবেন তারা।

শেফালীর তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়ছেন। মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে আব্দুল রাজ্জাক ডিমলায় ব্যবসা করেন।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতনি শারাফি রাজ জানান, তার দাদি তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ৫২ বছর বয়সে দাদির এইচএসসি পাশের সাফল্যে সে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। দাদিকে দেখে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে চায় সে। বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তার। 

শেফালী বেগম জানান, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে সংসারের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় বরাবরই মেধাতালিকায় ছিলেন কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ৪.২১ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাশ করতে পেরে জীবনের বড় একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ রায় বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে এমন সংগ্রামী শিক্ষার্থী খুব কম দেখেছেন। শেফালী বেগম প্রমাণ করেছেন, শিক্ষা বয়সের কাছে নয়, ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে। তার সাফল্য অন্যদেরও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।

নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। শেফালী বেগমের অর্জন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার এই সাফল্য অন্যদেরও নতুন করে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

এইচএসসি ফলাফল এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

লক্ষ্মীপুরে এইচএসসিতে পাঁচ কলেজের সবাই ফেল

লক্ষ্মীপুরে এইচএসসিতে পাঁচ কলেজের সবাই ফেল

ইংরেজি আইসিটিতে বিপর্যয়

এইচএসসিতে ২২ বছরে সর্বনিম্ন পাশের হার ইংরেজি আইসিটিতে বিপর্যয়

আরও পড়ুন

কুমিল্লা জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার

কুমিল্লা জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াতকর্মীকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াতকর্মীকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

যুবসমাজকে দক্ষ করে রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে চায় সরকার: জিকে গউছ

যুবসমাজকে দক্ষ করে রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে চায় সরকার: জিকে গউছ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম