Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

Advertisement

Icon

নোয়াখালী (উত্তর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

Advertisement

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শূন্য পাশ করা ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ‘বেগমগঞ্জ আপার মডেল কলেজ’। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে ফলাফল প্রকাশের পর কলেজটির ঠিকানা ধরে খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। বাস্তবে নেই কলেজটির কোনো দৃশ্যমান ক্যাম্পাস, নেই অধ্যক্ষ কিংবা স্থায়ী শিক্ষক। এমনকি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন।

ফলাফল প্রকাশের পর শূন্য পাশের প্রতিষ্ঠানটির খোঁজে মাঠে নামেন সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইনে পাওয়া ঠিকানা ধরে বেগমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নেওয়া হয়। প্রথমে কলেজটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয় বেগমগঞ্জের কন্ট্রাক্টরের মসজিদ এলাকা।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পরিবর্তে রয়েছে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। পরে চৌমুহনী পূর্ব বাজারের কেএইচ টাওয়ারের মণ্ডলপাড়ায় গিয়ে কলেজটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপর চৌমুহনী কলেজ গেট এলাকায়ও খোঁজ নেওয়া হয়।

কলেজের প্রচারপত্রে দেওয়া একাধিক মোবাইল ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে কেউই বর্তমানে দায়িত্বে থাকার কথা স্বীকার করেননি।

স্বপন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি পাঁচ বছর আগে কলেজের দায়িত্বে ছিলাম। এখন আর নেই।

পরে আরেকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে রফিকুল আলম রুবেল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কলেজটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তিনি জানান, দায়িত্বটি কাগজে-কলমে নয়। কলেজের গভর্নিং বডি তাকে অধ্যক্ষ করার প্রস্তাব দিয়েছিল; কিন্তু তিনি ওই দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।

কলেজটির ক্যাম্পাস কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবেল জানান, বর্তমানে তাদের কোনো ক্যাম্পাস নেই। আগে চৌমুহনী কলেজের পাশে একটি কক্ষে কলেজের অফিস ছিল। সেটিও এখন আর নেই। চৌমুহনী গণিপুর গার্লস একাডেমির সামনে একটি ভবন ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভবনের নিচে ফুচকার দোকান থাকায় সেখানে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তাই বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো অধ্যক্ষ কিংবা স্থায়ী শিক্ষক নেই। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজে ক্লাশ নেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাদের নাম-পরিচয়ও জানাতে পারেননি।

রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর একসময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং তাদের অনেকে বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে কলেজটি তিনজন মিলে দেখভাল করেন। তাদের একজন নূরনবী, যিনি চৌমুহনী কলেজ রোডে প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসা করেন। অপরজন আফাজ উদ্দিন। আর রুবেল নিজে কলেজের কাগজপত্র দেখাশোনা করেন বলে জানান।

রুবেল আরও দাবি করেন, বর্তমানে কলেজে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে তাদের নিয়মিত ক্লাশ হয় না। এমনকি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও চৌমুহনীর একটি মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান তিনি। তবে ওই মাদ্রাসার নামও জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে কলেজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা নূরনবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলেজের কোনো দায়িত্বে নেই বলে দাবি করেন। বর্তমানে কে বা কারা কলেজটির দায়িত্বে রয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। অপর ব্যক্তি আফাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলায় এ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে আমার জানা নেই। গত তিন-চার বছরেও প্রতিষ্ঠানটির কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কলেজগুলো সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সম্পর্কেই আমার সন্দেহ রয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার রহমান জানান, এ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে তিনি জানেন না। তার ধারণা, অন্য কোনো কলেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকতে পারে। কিভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, এই প্রথম শুনলাম নোয়াখালীতে এই নামে একটি কলেজ রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এমন একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় নোয়াখালী জেলায় ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। জেলায় মোট ১৬ হাজার ২৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬ হাজার ৩১৭ জন। পাশের হার ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১১২ জন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

এইচএসসি ফলাফল এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

লক্ষ্মীপুরে এইচএসসিতে পাঁচ কলেজের সবাই ফেল

লক্ষ্মীপুরে এইচএসসিতে পাঁচ কলেজের সবাই ফেল

আরও পড়ুন

শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছেছে আইকাও অডিট টিম

শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছেছে আইকাও অডিট টিম

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুমিল্লা জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার

কুমিল্লা জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াতকর্মীকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াতকর্মীকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম