এইচএসসি ফলাফল
এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও বগুড়ার কাহালুর আল্লামের তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ১২ জন এবং কর্মচারী চার জন। মানবিক বিভাগের ওই একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে গত দুই বছর ধরে। এর আগে ফলাফল এমন ছিল না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান মণ্ডল জানান, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি অবসরে যান। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হতো। শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করত।
তিনি বলেন, গত বছরও প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাদের কেউই পাশ করতে পারেনি। এবারও মানবিক বিভাগ থেকে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে।
তবে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ টিএম ফেরদৌস আলম পলাশ বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। তবে তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র একজন। বাকি চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাশ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চান না। এসএসসি পাশের পর অনেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করে, আবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। দারিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেদের টাকায় তাদের ভর্তি, ফরম পূরণ ও বইপুস্তকের ব্যবস্থা করেন। মূলত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতেই তারা এসব উদ্যোগ নেন।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, বগুড়ার শিক্ষার্থীরা এখন তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে আগ্রহী। ফলে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ক্লাস করার পর আর আসে না। একপর্যায়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিও কমে যায়। পরে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডেকে এনে ক্লাস পরিচালনার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ শাখার পাশাপাশি বাণিজ্য শাখারও অনুমোদন রয়েছে। মানবিক বিভাগে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ শাখাসহ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১২ জন শিক্ষক ও চার জন কর্মচারী রয়েছেন।

-6ae71fff93db4.jpg)