নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২৫
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সস্তাপুর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে একটি পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে তারা কারখানার ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনেন। এরপর সস্তাপুর, রামারবাগ, কোতালেরবাগ, জালকুড়ি ও দেলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কয়েক হাজার শ্রমিক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিবু মার্কেট ওভারপাসের নিচে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
প্রথমে পুলিশ হ্যান্ডমাইকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক দফা বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জালকুড়ি এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ রায়ট কার ও জলকামান নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। চলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া। এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
সড়কে আটকে থাকা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকেও হামলা চালানো হয়। এতে সাত থেকে আটটি যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে তাদের ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
শ্রমিকেরা আন্দোলনে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের (জোন-৪) পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকেরা আন্দোলনে ছিলেন না। বিকাল ৩টার কিছু আগে কয়েকটি কারখানা থেকে বের হয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও সড়কে নিয়ে আসেন তারা। পুলিশ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। একপর্যায়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে প্রায় ১০০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।

-6ae9ee1a9545e.jpg)