আগুনে নিঃস্ব ১১ বেদে পরিবার, শিকলে বাঁধা বানরের মৃত্যু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
আগুনে নিঃস্ব ১১ বেদে পরিবার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১১টি বেদে পরিবারের ৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভানোর সময় ইসমাত আরা নামের এক নারী আহত হয়েছেন। এ সময় দুর্ঘটনাস্থলে শিকলে বাঁধা একটি বানরও পুড়ে মারা গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে আগুন লেগে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ও সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রওশন আলী নামের এক ব্যক্তির ঘরে তার পুত্রবধূ গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করছিলেন। হঠাৎ সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই ঘরের আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন পুরো ঘর এবং আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে পাশের অন্য ঘরগুলো রক্ষা পায়। তবে আগুন নেভানোর সময় মাথায় কাঠ পড়ে ইসমাত আরা নামের এক নারী আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ও ফয়জুল আজিম বলেন, আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চারটি বসতঘর একেবারে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ওই চার ঘরে রওশন আলী ও খলিলুর রহমানের ১১ ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘরে স্বর্ণালংকার ছিল। আগুনে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীরা বেদে সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। স্থায়ীভাবে বসতঘর তৈরি করে তারা এখানে বসবাস করছেন। তারা নিরীহ মানুষ। বসতঘর ছাড়া তাদের আর কিছু ছিল না। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন ১১টি কক্ষ পুড়ে গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হবে।
