|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে ডা. মাহফুজা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর নওগাঁ শহরের বেসরকারি বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে প্রসূতি শান্তনা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের পর এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রসূতি শান্তনা আক্তার নওগাঁ শহরের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শান্তনা আক্তারকে যমজ সন্তানের বিষয়ে পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য ডা. মাহফুজা খাতুনকে দেখানো হয়। তিনি চেকআপ করে দ্রুত সিজার করতে হবে বলে জানান। তার কথামতো বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ওই রাত ৮টার দিকে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
শান্তনা আক্তার সিজারের আগেও দুটি বাচ্চার কথা জানতেন; কিন্তু সিজারের পর একটি মেয়ে বাচ্চা তাদের দেখানো হয়। প্রসূতির পরিবার বিষয়টি জানার পর চিৎকার শুরু করে। এ সময় প্রসূতিকে বিভিন্ন ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হয়। অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে উভয় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার প্রতি মিনিটে পাওয়া যায়। সম্ভাব্য ওজন উল্লেখ করা হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম। আমরা জানতাম দুটি নবজাতক; কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর একজনকে দেখানো হয়। নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার বলেন, সিজারের আগেও জানি আমার দুটি বাচ্চা। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে; কিন্তু সিজারের পর একটি মেয়ে বাচ্চা আমাকে দেখানো হয়। আমার পরিবার জানার পর তারা চিৎকার শুরু করে। এ সময় চিকিৎসক আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে আমাকে প্রায় আধাঘণ্টা রেখে দেয়। তারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে আর বলে, আমরা যদি বিষয়টা মেনে না নিই তাহলে আমাকে এ অবস্থায় রেখে দেবে বলে ভয় দেখানো হয়। দুই বাচ্চাকেই আমি চাই। বিষয়টি তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ওই প্রসূতি ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী। তার পরামর্শে এখানে ভর্তি হয়েছিল। তিনি নিজে অপারেশন করেছেন। বাচ্চা ১টা না ২টা—তা ওই ডাক্তার বলতে পারবেন। আমরা কিছু জানি না।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, এ বিষয়ে নবজাতকের বাবা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
