স্ত্রীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন-ছুরিকাঘাত, ১৮ দিন পর মৃত্যু
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার দোহার উপজেলায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ ও ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার ১৮ দিন পর রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সকালে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের খাসিরটেক এলাকায় পপি আক্তার (৩৪) নামে ওই গৃহবধূর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পরে ছুরিকাঘাত করে তার স্বামী মো. আনোয়ার। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, একাধিকবার পপিকে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে বললেও তিনি রাজি হননি।
এর জেরে গত ১৯ অক্টোবর সকালে শ্বশুরবাড়িতে আসেন আনোয়ার। এ সময় পপি তার পাঁচ মাস বয়সি শিশুকে স্বামী আনোয়ারের কোলে দিয়ে পানি আনতে গেলে পেছন থেকে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আনোয়ার। এরপর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পপির পেটে একাধিকবার আঘাত করেন তিনি। পপির ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আনোয়ার।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পপিকে উদ্ধার করে প্রথমে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আঘাত গুরুতর বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেখানে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে মারা যান পপি।
এ বিষয়ে পপির বোন স্বর্ণা ও চাচা দানেছ চৌকিদার জানান, স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে পপি মারা গেছেন। তারা খুনি আনোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্করকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
