চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই যুবককে নাম মো. ফারুক হোসেন (৪০)। ঘটনার ১০ দিন পর শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি এলাকায় চোর সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়। নিহত মো. ফারুক হোসেনের বাড়ি উপজেলার কাঁচপুরের ললাটি এলাকায়। তার পিতার নাম- সেরাজ উদ্দিন।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার গ্রামের বাড়ি ললাটি এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় সেখানে নিহতের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় এক হৃদয় বিদায়ক ঘটনার অবতারণ ঘটে।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর মো. ফারুক হোসেনের মা ওহেদা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল। ৩২৬ ধারায় দায়ের করা মারধরের ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে।
নিহতের মা ওহেদা বেগম জানান, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় ললাটি এলাকার আমিনুল ভেন্ডার , তার ভাগিনা অমিত হাসানসহ কয়েকজন মিলে তাঁর ছেলে ফারুক হোসেনকে বাসা থেকে ডেকে ললাটি জনতা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় ফারুক হোসেন স্থানীয় আমিনুল ভেন্ডারের বাড়ির কারেন্টের তার চুরি করেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বাজারে আটকে রেখে এলোপাথাড়িভাবে মারধর ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় আহত ফারুক হোসেনের মা বাদি হয়ে আমিনুল ভেন্ডার, অমিত হাসানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁ থানায় ৩২৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। এদিকে আহত ফারুক হোসেনের অবস্থার আরও বেশি অবনতি হলে তার পরিবারের লোকজন রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে প্রায় ১০ দিন লাইভ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে সে মারা যায়।
নিহতের মা ওহেদা বেগম তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার ছেলেকে বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে বহু মানুষের সামনের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করছি।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
