মিলনের পর মূত্রনালীর সংক্রমণ, ভুলেও যেসব কাজ করবেন না
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে অনেকেরই অস্বস্তি হয়। বিশেষ করে নারীরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বা মূত্রনালীর সংক্রমণ। মূত্রনালী, মূত্রথলি, কিংবা কিডনি— মূত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
গবেষণা বলছে, জীবনে অন্তত একবার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নারী মূলনালীর সংক্রমণে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ৬৫ বছরের পর, এই ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কিছুটা কম।
মিলনের পর কেন বাড়ে সংক্রমণ
শারীরিক মিলনের সময় ঘর্ষণের ফলে যৌনাঙ্গের চারপাশের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রনালীতে প্রবেশ করে মূত্রথলিতে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে নারীদের শারীরিক গঠনগত কারণেই এই ঝুঁকি বেশি।
ছোট মূত্রনালী: পুরুষদের তুলনায় নারীদের মূত্রনালী ছোট হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই মূত্রথলিতে পৌঁছে সংক্রামিত করে।
পায়ুপথের নৈকট্য: নারীদের মূত্রনালী ও পায়ুপথের দূরত্ব কম হওয়ায় ‘ই. কোলাই’র মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রনালীতে ছড়ায়।
ওরাল সেক্স: ওরাল সেক্সের মাধ্যমে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
মূলনালীর সংক্রমণ থেকে ১০০ শতাংশ নিরাপদ থাকার জাদুকরী কোনো উপায় না থাকলেও, কিছু অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মিলনের পর প্রস্রাব করা: সহবাসের ঠিক পরেই প্রস্রাব করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মূত্রথলিতে প্রবেশ করা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের সঙ্গে ধুয়ে বেরিয়ে যায়। মিলনের আগেও একবার প্রস্রাব করে নেওয়া ভালো।
গরম পানি ব্যবহার: সহবাসের আগে গরম পানি দিয়ে যৌনাঙ্গ হালকাভাবে ধুয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ আটকানো সম্ভব।
গর্ভনিরোধক পরিবর্তনে নজর: ডায়াফ্রাম বা স্পার্মিসাইড জাতীয় গর্ভনিরোধক মূলনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বার বারবার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পদ্ধতি বদলানো উচিত।
অ্যান্টিবায়োটিকের একক ডোজ: যাদের ঘন ঘন ইউটিআই হয়, চিকিৎসকরা তাদের মিলনের ঠিক পরপরই খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি অ্যান্টিবায়োটিক ডোজের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
১. মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পর যেসব নারীর যোনিপথের টিস্যু শুষ্ক হয়ে যায়।
২. ঘন ঘন ও তীব্র শারীরিক মিলন বা নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সহবাস।
৩. স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
৪. গর্ভাবস্থা বা মূত্রনালীতে গঠনগত কোনো সমস্যা থাকলে।
৫. পরিবারে ঘন ঘন সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে।
এ ছাড়া ক্যাথেটার ব্যবহার, পাথর হলে ঠিকমতো প্রস্রাব না হওয়া এবং অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলেও মূত্রনালীর স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সংক্রমণ হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
১. বারবার প্রস্রাবের বেগ কিন্তু অল্প প্রস্রাব হওয়া।
২. প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা।
৩. তলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে অস্বস্তি ও চাপ অনুভব।
৪. ঘোলাটে, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব।
৫. সংক্রমণ কিডনিতে ছড়ালে পিঠের ওপরের দিকে ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।


