Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

অসুখী সম্পর্ককে সুখী করতে পারেন যেভাবে

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

অসুখী সম্পর্ককে সুখী করতে পারেন যেভাবে

Advertisement

একটি অসুখী সম্পর্ক শুধু মানসিক অশান্তির কারণ নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া ও মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি বুকে ব্যথা ও পেশিতে অস্বস্তিও তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, সুখী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং দীর্ঘায়ু লাভে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই কোনো সম্পর্ক যখন ভাঙনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন সেটি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা জানা জরুরি। কাপল থেরাপিস্টদের মতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং যোগাযোগের উন্নতির মাধ্যমে অনেক অসুখী সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, সম্পর্কের সমস্যা সমাধানে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কেন বারবার একই বিষয় নিয়ে ঝগড়া করেন দম্পতিরা?

সম্পর্কের শুরুতে হয়ত ঘরের কাজ, বাসন পরিষ্কার কিংবা ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে প্রথম মতবিরোধ দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে এসব বিষয়ই বারবার ঝগড়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে দম্পতিদের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা গটম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক ও মনোবিজ্ঞানী ক্যারি কোলের মতে, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, সন্তান লালন-পালন, যৌনজীবন, সম্পর্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার কতটা ভূমিকা থাকবে কিংবা ঘর পরিষ্কার রাখার মতো বিষয় নিয়ে দম্পতিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব মতবিরোধ দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থেকে যায়।

মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান ও তার দলের একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতিদের প্রায় ৬৯ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে যে বিষয়গুলো নিয়ে মতবিরোধ ছিল, চার বছর পরও সেগুলো নিয়ে ঝগড়া চলছিল। অন্যান্য গবেষণাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।

অর্থনৈতিক দায়িত্ব কিংবা ঘরের কাজ সমানভাবে ভাগ করে না নেওয়ার মতো বিষয় সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ঝগড়া হওয়াটাই যে অসুখী সম্পর্কের একমাত্র লক্ষণ, তা নয়। সুখী দম্পতিরাও মতবিরোধে জড়ান। মূল পার্থক্য তৈরি হয় তারা কীভাবে সেই বিরোধ সামাল দেন, তার ওপর।

সম্পর্ক ভাঙনের দিকে ঠেলে দিতে পারে যে চার আচরণ

গটম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণার আলোকে ক্যারি কোল এমন চারটি আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো সম্পর্কের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

১. অতিরিক্ত সমালোচনা: সঙ্গীর কোনো নির্দিষ্ট আচরণের পরিবর্তে তার ব্যক্তিত্ব বা চরিত্রকে আক্রমণ করে কথা বলা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায়।

২. অবজ্ঞা: সঙ্গীকে তুচ্ছ করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা অসম্মানজনক আচরণ করা পারস্পরিক শ্রদ্ধা নষ্ট করে।

৩. আত্মপক্ষ সমর্থন: নিজের ভুল বা দায়িত্ব স্বীকার না করে সব সময় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলে সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে পড়ে।

৪. নীরবতা বা স্টোনওয়ালিং: আলোচনার সময় সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা মানসিকভাবে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়া সম্পর্কের যোগাযোগ ব্যাহত করে।

কোলের মতে, এসব আচরণ সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তবে দুজনই যদি নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতে আগ্রহী হন, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

গবেষণায় সঙ্গীর কাছ থেকে নিয়মিত সমালোচনা পাওয়ার সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকির সম্পর্কও উঠে এসেছে। পাশাপাশি আগ্রাসন ও বৈরী আচরণ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

তবে সব ধরনের মতবিরোধই ক্ষতিকর নয়। পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে, কৌতূহল ও সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলে সেই ঝগড়াও সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে।

সুখী সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন সহানুভূতি ও সহযোগিতা

একটি সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, দুজনেরই মনে হওয়া যে সঙ্গী তার কথা মন দিয়ে শোনেন, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকেন। সম্পর্কবিষয়ক গবেষণায় এই বিষয়টিকে সঙ্গীর প্রতি সংবেদনশীলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সঙ্গীর অনুভূতি ও প্রয়োজন বুঝতে পারা সম্পর্কের সন্তুষ্টি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে দয়া, সহযোগিতা এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি শক্তিশালী করে।

বিবাহিত দম্পতিদের নিয়ে ২০ বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ঘরের কাজ সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের সন্তুষ্টির ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে।

ঝগড়ার ধরন ঘুমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তিক্ত ও বৈরী তর্ক ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে।

সহানুভূতি ফিরিয়ে আনার উপায় কী?

দীর্ঘদিনের তিক্ততা ও ভুল বোঝাবুঝি জমে গেলে সঙ্গীর সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবু সম্পর্কের যোগাযোগ উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাপল থেরাপি সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাপল থেরাপি নেওয়া দম্পতিদের প্রায় ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। এটি সম্পর্কের দ্বন্দ্ব কমানোর পাশাপাশি মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে এবং কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতার উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যামিলি ইনস্টিটিউটের কাপল থেরাপিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক জে লেবোর মতে, থেরাপি কার্যকর হচ্ছে কি না, তা বোঝার একটি উপায় হলো—দম্পতিরা একে অপরের কথা আগের চেয়ে ভালোভাবে শুনতে ও বুঝতে পারছেন কি না।

লেবোর মতে, সম্পর্কে সমস্যা বাড়লে সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নিজের সঙ্গীর সঙ্গে কী সমস্যা হচ্ছে, তা বোঝার জন্য কিছুটা পিছিয়ে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সঙ্গীর অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিজের সঙ্গে না মিললেও সেটি বোঝার চেষ্টা করা। যেমন, ‘তুমি কেন এমন অনুভব করছ, তা আমি বুঝতে পারছি’—এমন মনোভাব প্রকাশ করা।

দ্বিতীয়ত, একে অপরের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও অনুভূতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ বজায় রাখা। সঙ্গীকে বোঝার এই আগ্রহ থাকলে সম্পর্কের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাও বাড়ে।

সঙ্গীর স্বপ্ন ও জীবনের লক্ষ্য বুঝুন

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা একই ধরনের বিরোধের পেছনে অনেক সময় এমন কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস থাকে, যা দুজনের কেউই ভালোভাবে বুঝতে পারেন না। এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।

ক্যারি কোল এমন এক দম্পতির উদাহরণ দিয়েছেন, যারা অর্থ ব্যয় ও সঞ্চয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। দুজনই শৈশবে দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছিলেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের মানসিকতা তৈরি করেছিল।

স্ত্রী ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঞ্চয় ও পরিকল্পিত বাজেটের ওপর গুরুত্ব দিতেন। অন্যদিকে, স্বামী কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে ভালো জিনিস কেনা এবং জীবন উপভোগ করতে চাইতেন।

ফলে অর্থ নিয়ে তাদের বিরোধ বারবার ফিরে আসত। কিন্তু কেন দুজনের চিন্তাভাবনা আলাদা, তা তারা বুঝতে পারছিলেন না।

থেরাপির সময় তারা নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা, ভয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার পর সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা রাখা এবং বাকি অর্থ খরচের স্বাধীনতা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছান।

অর্থাৎ, সমস্যার সমাধান করতে হলে শুধু কে সঠিক, তা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। বরং কোন বিষয়টি প্রত্যেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বোঝা প্রয়োজন।

জে লেবোও এ ক্ষেত্রে দম্পতিদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, সম্পর্ক ঠিক করার ইচ্ছা ও চেষ্টা না থাকলে সবচেয়ে দক্ষ থেরাপিস্টের সাহায্যেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই কি সমাধান?

সম্পর্কের সমস্যার সমাধান সব সময় একসঙ্গে থাকা নয়। কখনো কখনো বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও কাপল থেরাপি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন জে লেবো।

থেরাপির মাধ্যমে দম্পতিরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে, এর মানসিক প্রভাব সামলাতে এবং সন্তান থাকলে তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

লেবোর মতে, বিচ্ছেদ বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেও মানুষ নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারেন।

তবে সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনা, সহানুভূতি প্রকাশ করা এবং মতবিরোধের সময় সম্মান বজায় রাখার মতো দক্ষতা শুধু সংকটে থাকা দম্পতিদের জন্য নয়। সুখী সম্পর্ককেও আরও সুন্দর ও দৃঢ় করে তুলতে পারে এসব অভ্যাস।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সম্পর্কের সমস্যা দেখা দিলে একে অপরকে দোষারোপ করার পরিবর্তে সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করা, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। দুজনের আন্তরিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টা থাকলে অনেক অমীমাংসিত বিরোধেরও সমাধান সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়: হাইকোর্টের রায়

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়: হাইকোর্টের রায়

নারী-পুরুষ একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়?

নারী-পুরুষ একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়?

অভিভাবকের অমতে পালিয়ে বিয়ে, ইসলামী শরিয়তে বৈধতার বিধান

অভিভাবকের অমতে পালিয়ে বিয়ে, ইসলামী শরিয়তে বৈধতার বিধান

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে দোয়া করা যাবে কি?

পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে দোয়া করা যাবে কি?

আরও পড়ুন

ভিটামিন সি খেলেই কি সর্দি-কাশি দূর হয়? গবেষণা কী বলছে

ভিটামিন সি খেলেই কি সর্দি-কাশি দূর হয়? গবেষণা কী বলছে

গবেষণা বার্ধক্যের গতি কমাতে যে অভ্যাসের ওপর জোর বিজ্ঞানীদের

বার্ধক্যের গতি কমাতে যে অভ্যাসের ওপর জোর বিজ্ঞানীদের

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অসুখী সম্পর্ককে সুখী করতে পারেন যেভাবে

অসুখী সম্পর্ককে সুখী করতে পারেন যেভাবে

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগে: ডব্লিউএইচও

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগে: ডব্লিউএইচও

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম