Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদরোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদরোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

Advertisement

‘প্রতিটি হৃদ্স্পন্দনই জীবন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে গণমুখী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ, তামাক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

স্বাগত বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ২ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যান। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব রোগের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণা, জনসচেতনতা ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সারা বছর এ বিষয়ে কাজ করছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, “হৃদরোগ প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী লবণ গ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব দেন। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকি শুরুতেই চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগসহ স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাক ব্যবহার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি কমাতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ঝুঁকি শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে নীতিগত উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব নওশাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনা মূল্যে হৃদরোগ নির্ণয় ক্যাম্প, সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বাইরে ফাউন্ডেশনের ৪৫টি অ্যাফিলিয়েটেড বডিও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

বিশ্ব হার্ট দিবসের এবারের বার্তা—‘একটি স্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না। প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দনই জীবন।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসায় বড় ঘাটতি, বাড়ছে অকালমৃত্যু

বিশ্ব হৃদরোগ দিবস আজ চিকিৎসায় বড় ঘাটতি, বাড়ছে অকালমৃত্যু

তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে

তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে

ঘরে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াবেটিসের রোগী? জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে রাখুন এই ৭ সরঞ্জাম

ঘরে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াবেটিসের রোগী? জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে রাখুন এই ৭ সরঞ্জাম

ক্যালসিয়াম স্কোর শূন্য হলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে কি?

ক্যালসিয়াম স্কোর শূন্য হলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে কি?

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবার

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবার

আরও পড়ুন

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদরোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদরোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

পুরুষদের ‘প্রোস্টেট ক্যানসার’, কোন বয়সের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি

পুরুষদের ‘প্রোস্টেট ক্যানসার’, কোন বয়সের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি

মেনোপজের পর নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ে, যা জানালেন দেবী শেঠি

মেনোপজের পর নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ে, যা জানালেন দেবী শেঠি

কিশোরীদের শরীরে নীরবে বাড়ছে PCOS

কিশোরীদের শরীরে নীরবে বাড়ছে PCOS

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম