প্রতি ৮টি ক্যানসারের একটি সংক্রমণজনিত, ঝুঁকি কমাতে করণীয় জানালেন ভারতীয় চিকিৎসক
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্যানসার প্রতিরোধের কথা উঠলেই সাধারণত ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চার কথা বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি কিছু সংক্রমণও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট অনকোলজিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ লাখ নতুন ক্যানসার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যা মোট ক্যানসার আক্রান্তের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় প্রতি আটটি ক্যানসারের একটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ ধরনের সংক্রমণ—হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি (এইচ. পাইলোরি), হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি), হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (এইচবিভি), এপস্টেইন-বার ভাইরাস (ইবিভি) এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (এইচসিভি)—সংক্রমণজনিত প্রায় সব ক্যানসারের জন্য দায়ী।
তবে এর অর্থ এই নয় যে যেকোনো সংক্রমণ থেকেই ক্যানসার হতে পারে বা এসব সংক্রমণে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ক্যানসার হবে। মূলত যেসব সংক্রমণ বছরের পর বছর শরীরে থেকে যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কোষ ও টিস্যুর ক্ষতি কিংবা কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটায়, সেগুলোর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি সম্পর্কিত।
ভারতে ২০২৪ সালে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ক্যানসারের ঘটনা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এইচপিভি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার
ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংক্রমণগুলোর একটি হলো এইচপিভি। ভারতীয় ক্যানসার চিকিৎসক ডা. কস্তুরী বড়ুয়া বলেন, ‘উচ্চঝুঁকির এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ প্রায় সব জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী এবং মলদ্বার, পুরুষাঙ্গ, ভলভা, যোনি ও গলার কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এইচপিভি টিকা এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের স্ক্রিনিং তাই প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
এইচ. পাইলোরি বাড়ায় পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি
হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ. পাইলোরি পাকস্থলীতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। দীর্ঘদিন এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকলে পাকস্থলীর আবরণে প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডা. বড়ুয়া বলেন, ‘এইচ. পাইলোরি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।’
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ক্যানসারের ঘটনা এইচ. পাইলোরির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। সংক্রমণজনিত ক্যানসারের কারণগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় অংশ। ভারতে প্রায় ৪৭ হাজার ক্যানসারের ঘটনা এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেপাটাইটিস বি ও সি থেকে বাড়তে পারে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি
হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডা. বড়ুয়া বলেন, ‘হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাস এর আরেকটি উদাহরণ। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বহু বছর ধরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা রয়েছে। হেপাটাইটিস বি ও সি—দুই ধরনের সংক্রমণই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধে এখনো কোনো টিকা নেই, তবে কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ নিরাময় করা সম্ভব।
সংক্রমণ থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
কিছু সংক্রমণ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা ক্যানসার প্রতিরোধের অংশ হতে পারে। এজন্য—
- প্রয়োজনীয় টিকা নিন: এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি টিকা সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ এবং কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- জরায়ুমুখের ক্যানসারের স্ক্রিনিং করান: নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জরায়ুমুখের অস্বাভাবিক কোষের পরিবর্তন শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব।
- ঝুঁকি থাকলে সংক্রমণের পরীক্ষা করুন: হেপাটাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
- নিরাপদভাবে ইনজেকশন ও রক্ত গ্রহণ করুন: জীবাণুমুক্ত সুচ ব্যবহার এবং নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রক্তবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
- নিরাপদ যৌন আচরণ বজায় রাখুন: এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি-এর মতো সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ যৌন আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
- দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের চিকিৎসা নিন: এইচ. পাইলোরির মতো সংক্রমণকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
- ক্যানসারের অন্যান্য ঝুঁকি কমান: ধূমপান এড়িয়ে চলা, মদ্যপান সীমিত করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার খাওয়াও ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।–আকর্ষণীয় শিরোনামসহ রিরাইট করুন।
সূত্র: এনডিটিভি হেলথ
