হৃদরোগের উপসর্গ লুকিয়ে মা-বাবার জিনে, জেনে নিন ৭ বিষয়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম ও ধূমপান এড়িয়ে চলার গুরুত্ব অনেক। তবে হৃদ্রোগের ঝুঁকি শুধু জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে না। মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া জিনগত বৈশিষ্ট্যও কোলেস্টেরলের মাত্রা, হৃদ্স্পন্দনের ছন্দ এবং অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের কারও উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্পেশির সমস্যা কিংবা অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এসব তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারে।
মেডজিনোম ল্যাবসের ব্যক্তিগত জিনতত্ত্ব ও জিনোমিক মেডিসিন বিভাগের পরিচালক রমেশ মেননের মতে, হৃদ্স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে জিনগত প্রভাব রয়েছে। তাই বংশগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও জরুরি।
১. বংশগত উচ্চ কোলেস্টেরল
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের অভাব দায়ী নয়। ফ্যামিলিয়াল হাইপার কোলেস্টেরোলেমিয়া নামে একটি বংশগত রোগের কারণে অল্প বয়স থেকেই রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসা না হলে এতে কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরও কারও এ সমস্যা থাকতে পারে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের কোলেস্টেরল খুব বেশি থাকলে বা অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
২. হৃদ্পেশির সমস্যা
কিছু জিনগত পরিবর্তন হৃদ্পেশির গঠন, পুরুত্ব ও রক্ত পাম্প করার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের বিভিন্ন ধরনের হৃদ্পেশির রোগ দেখা দিতে পারে। পরিবারে কারও এ ধরনের রোগ, ব্যাখ্যাতীত হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতা বা আকস্মিক হৃদ্জনিত মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই জিনগত পরিবর্তন বহন করলেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রোগের লক্ষণ ও তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।
৩. অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন
হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক স্পন্দন বজায় রাখতে বৈদ্যুতিক সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু বংশগত রোগ, যেমন লং কিউটি সিনড্রোম, এ সংকেতব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এতে বিপজ্জনক অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কারণ ছাড়াই বুক ধড়ফড় করা কিংবা পরিবারের কারও অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৪. উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ঝুঁকি বোঝার সুযোগ
বংশগত ঝুঁকি থাকলেও অনেকের শরীরে দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট না থাকলেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরিবারের একাধিক ঘনিষ্ঠ সদস্যের হৃদরোগ, বংশগত হৃদ্রোগ কিংবা ব্যাখ্যাতীত আকস্মিক মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে তা জানানো উচিত। এতে আগে থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণে সহায়তা হতে পারে।
৫. কত কম বয়সে হৃদ্রোগ হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
পরিবারের কোনো সদস্য চল্লিশের কোঠায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে তা অনেক পরে আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় ভিন্ন ধরনের সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের একাধিক সদস্যের অল্প বয়সে হৃদরোগ দেখা দিলে বংশগত ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যের কী ধরনের হৃদ্রোগ হয়েছিল এবং কত বয়সে হয়েছিল, সে তথ্য চিকিৎসককে জানানো উপকারী। এর ভিত্তিতে কোলেস্টেরল পরীক্ষা ও অন্যান্য ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
৬. বংশগত ঝুঁকি
জিনগত বৈশিষ্ট্য হৃদরোগের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেললেও জীবনযাপনের গুরুত্ব কমে যায় না। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সব বংশগত রোগের ঝুঁকি দূর করতে পারে না। যেমন, ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ায় আক্রান্ত কারও জীবনযাপনে পরিবর্তনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধেরও প্রয়োজন হতে পারে।
৭. বংশগত ঝুঁকি মানেই হৃদরোগ অনিবার্য নয়
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকা বা কোনো বংশগত ঝুঁকি বহন করার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও অবশ্যই হৃদ্রোগ হবে। কিছু রোগ নির্দিষ্ট একটি জিনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার সাধারণ হৃদ্রোগের পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ ও জীবনযাপনের সম্মিলিত প্রভাব থাকে।
কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে জিনগত পরীক্ষা উপকারী হতে পারে। তবে সবার জন্য এ পরীক্ষা প্রয়োজন নয়। পরীক্ষার ফলাফল পরিবারের রোগের ইতিহাস ও অন্যান্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা জরুরি।
পরিবারের হৃদরোগের ইতিহাস জানুন
জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, হৃদ্পেশির রোগ কিংবা আকস্মিক মৃত্যুর ইতিহাস সম্পর্কে জানুন। এসব তথ্য চিকিৎসককে জানালে প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতে পারে।

-6adc3f2207573.jpg)