সম্ভাব্য তারিখ পার হলে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্তানকে নিরাপদে ও প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর আলো দেখাতে চান প্রতিটি হবু মা। জন্মপথের এ পথ পেরিয়ে নবজাতকের আগমনটাই মানবজীবনের সবচেয়ে স্বাভাবিক এবং চেনা চিত্র। চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, বড় কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকলে এবং মা ও সন্তান সুস্থ থাকলে এ স্বাভাবিক প্রসবই সবচেয়ে নিরাপদ ও কল্যাণকর।
তবুও অনেক সময় গর্ভকালের সম্ভাব্য তারিখ বা ‘ইডিডি’ পেরিয়ে গেলে হবু মায়েদের মনে নতুন করে দুশ্চিন্তা দানা বাঁধে— নির্ধারিত দিন পার হয়ে গেলেও কি নরমাল ডেলিভারি হওয়া সম্ভব? এ নিয়ে চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা হলো, ওই নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যদি মা ও অনাগত সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই; প্রাকৃতিকভাবে প্রসববেদনা বা লেবার পেইন ওঠার সম্ভাবনা তখনো যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাতীয় নারীশক্তি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো।
‘অনেকেই জানতে চেয়েছেন, ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ পার হয়ে গেলে কি ব্যথা উঠানো যায়? তখনও কি নরমাল ডেলিভারি সম্ভব?
জি, সম্ভব। তবে মা ও বাচ্চার অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রথমে বুঝতে হবে, ডেলিভারির ডেট মানেই ওই দিন সন্তান জন্ম নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। এটি একটি সম্ভাব্য তারিখ। অনেকের এ তারিখের কয়েক দিন পরও স্বাভাবিকভাবে প্রসবব্যথা শুরু হতে পারে।
তাহলে ডেট পার হলে কী করবেন?
ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ পার হলে নিজের সিদ্ধান্তে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মায়ের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাচ্চার নড়াচড়া, বাচ্চার বৃদ্ধি, গর্ভের পানির পরিমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সবকিছু ভালো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সময় অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে ৪১ সপ্তাহের দিকে প্রসব শুরু করানোর বিষয়ে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সবার ক্ষেত্রে ৭ দিন অপেক্ষা করা নিরাপদ, এমন নয়।
ব্যথা না উঠলে কি নরমাল ডেলিভারি সম্ভব?
অবশ্যই সম্ভব। ব্যথা নিজে থেকে শুরু না হলেও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধ বা অন্যান্য পদ্ধতিতে প্রসব শুরু করানো যায়। একে বলা হয় Labour Induction।
কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করে জরায়ুর মুখ কতটা নরম হয়েছে, কতটা খুলেছে, বাচ্চার অবস্থান এবং মা ও বাচ্চার সামগ্রিক অবস্থার ওপর।
জরায়ুর মুখ প্রস্তুত না থাকলে কিছু ওষুধ দিয়ে সেটিকে নরম ও প্রসবের উপযোগী করা যায়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসব শুরু করানো হয়। আবার জরায়ুর মুখ কিছুটা খোলার পর এবং পরিস্থিতি উপযুক্ত হলে অক্সিটোসিন ইনফিউশন দিয়ে প্রসবব্যথা বাড়ানো হতে পারে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় মা ও বাচ্চাকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
তাহলে বিপদ কোথায়?
বিপদ হলো, প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাড়িতে বা দাইয়ের মাধ্যমে ইনজেকশন দিয়ে প্রসবব্যথা উঠানোর চেষ্টা করা।
বিশেষ করে অক্সিটোসিনের ভুল মাত্রা বা অনুপযুক্ত ব্যবহার জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন, বাচ্চার হার্টবিটে সমস্যা এবং গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রসবব্যথা শুরু করানোর ওষুধ কখনোই নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবহার করবেন না।
নরমাল ডেলিভারি করতে চাইলে কী করবেন?
বাংলাদেশে অনেক পরিবারের জন্য হাসপাতালের খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। কিন্তু নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে গিয়ে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না।
সরকারি হাসপাতালেও প্রসবসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর্থিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে শুরুতেই জানাবেন। কোথায় নিরাপদে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ নেবেন।
সবশেষে একটি কথা মনে রাখবেন, নরমাল ডেলিভারি কোনো প্রতিযোগিতা নয়। নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হলে অবশ্যই ভালো, কিন্তু মা বা বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য সিজারিয়ান প্রয়োজন হলে সেটিও সঠিক চিকিৎসা।
আমাদের লক্ষ্য শুধু নরমাল ডেলিভারি নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো সুস্থ মা ও সুস্থ সন্তান।
এ সবকিছুর মূলে বাচ্চার নড়াচড়া কাউন্ট করা শিখতে হবে। বাচ্চা কতটা ভালো আছে এটা আমরা কেবল নড়াচড়া দিয়ে বাইরে থেকে বুঝতে পারি। নড়াচড়া নিয়ে আমার অনেক লেখা আছে গর্ভবতীরা পড়ে নেবেন
চেষ্টা আমাদের, আর ভরসা আল্লাহর ওপর।’
