রাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুম, পুরুষের জন্য যে বিপদ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাজের চাপ, দুশ্চিন্তায় ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক। তবে রাতের পর রাত যদি ঘুম কম হয়, তাহলে মুশকিল। কম ঘুমের কারণে ক্লান্তি, অবসাদ গ্রাস করছে। কম ঘুম পুরুষদের শুক্রাণুদের মান কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বন্ধ্যত্বের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে যারা রাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমান তাদের এই সমস্যা হতে পারে।
ঘুম এবং হরমোন
শরীরের একটি ঘড়ি আছে, যাকে বলে ‘জৈবিক ঘড়ি’। এই ঘড়ি নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। দেহঘড়ির এই ছন্দ মেনে চব্বিশ ঘণ্টা ধরে নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ চলতে থাকে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম আসে, সকালে ঘুম ভাঙে, নির্দিষ্ট সময়ে খিদে পায়। এই জৈবিক সময়ছন্দকে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’, বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’। সেই মতো হরমোনের ক্ষরণও নিয়ন্ত্রিত হয়।
হার্ভার্ডের গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে জেগে থাকেন, ভোরের দিকে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমান, তার শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক নেই। আর এই হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও তার গুণগত মানও নষ্ট হবে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়বে।
দেহঘড়ি বিগড়ে গেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণও বাড়ে। একে বলা হয় ‘স্ট্রেস হরমোন’। কর্টিসল বেড়ে গেলে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপপনিয়া’-র ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগে ঘুমের মধ্যে বারে বারে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ব্যথা বাড়ে, যা থেকে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দেহঘড়ি দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্নিত হলে টাইপ-২ ডায়বিটিস, স্থূলতা, হৃদ্রোগ, ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর থেকেও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে। তাই রাতে টানা ঘুম জরুরি। ঘুম না আসে তাহলে মেডিটেশন করুন।
