Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

শীত আসার আগেই শিশুদের গলাব্যথা ও টনসিলের সমস্যা? চিকিৎসার সঠিক উপায়

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

শীত আসার আগেই শিশুদের গলাব্যথা ও টনসিলের সমস্যা? চিকিৎসার সঠিক উপায়

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও জ্বরের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। কখনো খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হয়, আবার কখনো গলার ভেতরে টনসিল ফুলে যায়। এসব উপসর্গের পেছনে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকতে পারে। টনসিলে প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় টনসিলাইটিস।

শিশুর গলাব্যথা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে ব্যথা তীব্র হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা বারবার ফিরে এলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

কেন হয় শিশুদের টনসিলের সমস্যা?

টনসিল গলার পেছনের দুই পাশে অবস্থিত এক ধরনের লসিকাযুক্ত টিস্যু, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। মুখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখে।

তবে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টনসিলে প্রদাহ হতে পারে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সংক্রমণের পাশাপাশি ধুলাবালি ও অ্যালার্জির কারণেও গলায় অস্বস্তি হতে পারে, যদিও এগুলো সাধারণত সরাসরি টনসিলাইটিসের কারণ নয়।

কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

শিশুর গলাব্যথা বা টনসিলের প্রদাহ হলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • গলাব্যথা এবং খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হওয়া।
  • জ্বর, মাথাব্যথা ও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন।
  • মুখে দুর্গন্ধ এবং গলার পাশে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
  • টনসিল ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া; কখনো টনসিলে সাদা দাগও দেখা যেতে পারে।
  • ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খাওয়ার অনীহা, বমি বমি ভাব কিংবা বারবার জ্বর হওয়া।

এসব লক্ষণ থাকলেই যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে, তা নয়। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ অনেক সময় একই রকম হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

গলাব্যথার সময় শিশুর অস্বস্তি কমাতে এবং সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে বাড়িতে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন—

  • পর্যাপ্ত তরল পান করান: শিশুকে বারবার পানি ও আরামদায়ক তাপমাত্রার পানীয় দিন। গিলতে সুবিধা হলে কুসুম গরম তরলও দেওয়া যেতে পারে। খুব গরম পানীয় এড়িয়ে চলুন।
  • নরম ও সহজে গেলা যায় এমন খাবার দিন: নরম ভাত, স্যুপ বা শিশুর উপযোগী অন্যান্য নরম খাবার দিতে পারেন। গিলতে ব্যথা হলে জোর করে খাবার খাওয়াবেন না; বরং অল্প অল্প করে খেতে উৎসাহ দিন।
  • বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন। জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে না পাঠানোই ভালো।
  • কুসুম গরম লবণপানিতে গার্গল: যে শিশু নিরাপদে গার্গল করে পানি ফেলে দিতে পারে, তাকে কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করতে দেওয়া যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত নয়, কারণ তারা পানি গিলে ফেলতে পারে বা দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • সংক্রমণ ছড়ানো কমান: শিশুকে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা শেখান। পানির বোতল, গ্লাস ও খাওয়ার বাসন ভাগাভাগি না করাও ভালো।

নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না

শিশুর গলাব্যথা হলেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে, যেমন স্ট্রেপটোকক্কাল গলার সংক্রমণে, পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।

জ্বর বা ব্যথার ওষুধ শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী দিতে হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ওষুধের নির্দেশনা মেনে চলুন। শিশুদের ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন দেবেন না।

কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে—

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা শ্বাসের সময় অস্বাভাবিক শব্দ হলে।
  • লালা বা পানি গিলতে না পারলে, কিংবা লালা ঝরতে থাকলে।
  • মুখ খুলতে অসুবিধা হলে বা গলার এক পাশে বেশি ফোলা দেখা দিলে।
  • শিশু পানি পান করতে না পারলে, প্রস্রাব কমে গেলে বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে।
  • জ্বর বা গলাব্যথা তীব্র হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা বারবার ফিরে এলে।
  • শ্বাসকষ্ট, লালা গিলতে না পারা বা গুরুতর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন।

শীতের আগেই শিশুদের গলাব্যথা ও টনসিলের সমস্যা দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণগুলো খেয়াল করুন। পর্যাপ্ত তরল, নরম খাবার, বিশ্রাম ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শিশুর আরাম পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে সংক্রমণের কারণ বুঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবেন, শিশুর গলাব্যথা মানেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার কমানো যায় এবং সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

২০ সেকেন্ডে রসুনের খোসা ছাড়াবেন যেভাবে

২০ সেকেন্ডে রসুনের খোসা ছাড়াবেন যেভাবে

বয়স অনুযায়ী কার কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বয়স অনুযায়ী কার কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

সবুজ, হলুদ ও লাল ক্যাপসিকামের পার্থক্য কী? রঙের সঙ্গে বদলায় পুষ্টিগুণও

সবুজ, হলুদ ও লাল ক্যাপসিকামের পার্থক্য কী? রঙের সঙ্গে বদলায় পুষ্টিগুণও

অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে যা করবেন

অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে যা করবেন

ডায়াবেটিসে পায়ের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

ডায়াবেটিসে পায়ের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

১৮ মিনিট হাঁটলেই কমবে ওজন

১৮ মিনিট হাঁটলেই কমবে ওজন

আরও পড়ুন

শীত আসার আগেই শিশুদের গলাব্যথা ও টনসিলের সমস্যা? চিকিৎসার সঠিক উপায়

শীত আসার আগেই শিশুদের গলাব্যথা ও টনসিলের সমস্যা? চিকিৎসার সঠিক উপায়

২০ সেকেন্ডে রসুনের খোসা ছাড়াবেন যেভাবে

২০ সেকেন্ডে রসুনের খোসা ছাড়াবেন যেভাবে

রাত হলেই কাশি বাড়ে? জেনে নিন এর সম্ভাব্য কারণ ও ঘরোয়া সমাধান

রাত হলেই কাশি বাড়ে? জেনে নিন এর সম্ভাব্য কারণ ও ঘরোয়া সমাধান

বয়স অনুযায়ী কার কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বয়স অনুযায়ী কার কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম