রাত হলেই কাশি বাড়ে? জেনে নিন এর সম্ভাব্য কারণ ও ঘরোয়া সমাধান
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিনের বেলায় কাশি তেমন একটা বিরক্ত না করলেও রাতে বিছানায় শোয়ার পর তা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে এই সমস্যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দূষিত বাতাস শ্বাসনালিতে প্রদাহ ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, বাড়াতে পারে শ্লেষ্মা বা কফের পরিমাণ। এর সঙ্গে অ্যালার্জি, হাঁপানি কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা থাকলে রাতের ঘুমও ব্যাহত হতে পারে।
তবে রাতে কাশি বাড়ার পেছনে শুধু বায়ুদূষণই দায়ী নয়। কেন রাতে কাশি বেশি হয়, কীভাবে এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পাওয়া সম্ভব এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—এসব বিষয় জানা থাকলে শ্বাসতন্ত্রের যত্ন নেওয়া সহজ হয়।
বায়ুদূষণ কীভাবে কাশি বাড়ায়?
বায়ুদূষণের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা শ্বাস নেওয়ার সময় নাক-মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে পিএম২.৫ (PM2.5) নামের অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে প্রদাহ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে গলা ও শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া হতে পারে। শরীর শ্বাসনালি থেকে বিরক্তিকর কণা ও শ্লেষ্মা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। এর ফলেই কাশি দেখা দিতে পারে।
যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস কিংবা ফুসফুসের অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তারা বায়ুদূষণের প্রভাবে তুলনামূলক বেশি ভুগতে পারেন। তবে আগে থেকে শ্বাসতন্ত্রের রোগ না থাকলেও দূষণের কারণে গলায় অস্বস্তি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
রাতে কাশি বেড়ে যাওয়ার চারটি কারণ
১. গলার পেছনে শ্লেষ্মা জমা হওয়া
নাক ও সাইনাসে তৈরি হওয়া শ্লেষ্মা শুয়ে পড়লে গলার পেছনে নেমে আসতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে পোস্টনাজাল ড্রিপ (Postnasal drip) বলা হয়। এর ফলে গলায় খুসখুসে অনুভূতি তৈরি হয় এবং বারবার কাশি হতে পারে। অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।
২. হাঁপানির উপসর্গ বেড়ে যাওয়া
হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকের রাতের দিকে কাশি, বুকে চাপ অনুভব কিংবা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। ঘুমের সময় শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের কারণে শ্বাসনালির সংকোচনপ্রবণতা বাড়তে পারে। দিনের বেলায় দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।
৩. অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা
পাকস্থলীর অ্যাসিড বা উপাদান খাদ্যনালি দিয়ে ওপরে উঠে এলে তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেড়ে যায়। ফলে গলায় জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুর এবং কাশি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৪. ঘরের ভেতরের ধোঁয়া ও ধুলাবালি
বাইরের দূষণ থেকে বাঁচতে ঘরে থাকলেও কাশির সমস্যা পুরোপুরি এড়ানো যায় না। সিগারেটের ধোঁয়া, মশার কয়েল, ধূপ, রান্নার ধোঁয়া, ধুলাবালি এবং ঘরের অন্যান্য উত্তেজক উপাদান শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। ফলে রাতে কাশি আরও বেড়ে যেতে পারে।
রাতে কাশি কমাতে কী করবেন?
কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ কমানো এবং রাতের কাশির অস্বস্তি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বায়ুমানের সূচক পরীক্ষা করুন: বাইরে যাওয়ার আগে স্থানীয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) দেখে নিন। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা ও খোলা জায়গায় ব্যায়াম করা সীমিত রাখুন।
ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন: বাইরের বাতাস বেশি দূষিত থাকলে এবং ঘরের ভেতরের বাতাস তুলনামূলক পরিষ্কার হলে জানালা বন্ধ রাখতে পারেন। সম্ভব হলে উপযুক্ত HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। তবে রান্নার ধোঁয়া ও অন্যান্য ঘরোয়া দূষক কমানোর ব্যবস্থাও জরুরি।
ধোঁয়া ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন: ঘরের ভেতরে ধূমপান করবেন না। ধূপ, মশার কয়েল ও অন্যান্য ধোঁয়া তৈরি করে এমন উপাদানের ব্যবহার কমান। রান্নার সময় উপযুক্ত ভেন্টিলেশন বা ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: নিয়মিত পানি পান করলে গলার শুষ্কতা কমতে পারে এবং শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে শুধু পানি পান করলেই সব ধরনের কাশি সেরে যায় না।
ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তন করুন: পোস্টনাজাল ড্রিপ বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে কাশি হলে মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ কিছুটা উঁচু করে শুলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে শোয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন।
হাঁপানির চিকিৎসা নিয়ম মেনে চালিয়ে যান: হাঁপানি থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ও চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করুন। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে সাময়িক কাশি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাশি চলতে থাকলে কিংবা বারবার ফিরে এলে শুধু বায়ুদূষণকে দায়ী করা ঠিক নয়। সংক্রমণ, হাঁপানি, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্সসহ বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে।
কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে কিংবা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অন্যদিকে, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা কিংবা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।

