ঋতু পরিবর্তনে সর্দি-কাশি ও হজমের অস্বস্তি: কতটা উপকারী পানপাতা?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋতু বদলের সময় তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকেই সর্দি-কাশি, গলায় খুসখুস, পেট ফাঁপা কিংবা গাঁটে ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগেন। এসব অস্বস্তি কমাতে প্রচলিত ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে পানপাতার ব্যবহার বেশ পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে লোকজ পরিচর্যায় এই পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হলেও, এর মাধ্যমে সব ধরনের সমস্যা দূর হয়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পর্যাপ্ত নয়।
তাই পানপাতা ব্যবহারের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাও জরুরি।
কাশির অস্বস্তি কমাতে পানপাতা ও গোলমরিচ
গলায় খুসখুস, কাশির অস্বস্তি কিংবা গলা বসে যাওয়ার ক্ষেত্রে পানপাতার সঙ্গে গোলমরিচ, তুলসীপাতা ও মিছরি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে পরিষ্কার পানপাতার সঙ্গে কয়েকটি গোলমরিচ, এক-দুটি তুলসীপাতা ও অল্প মিছরি চিবিয়ে খাওয়ার কথা বলা হয়।
তবে কাশির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য সমস্যার কারণেও কাশি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে বা সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
পেট ফাঁপা ও হজমের অস্বস্তিতে পানপাতা-জোয়ান
পেট ভারী লাগা, ফাঁপা ভাব কিংবা হজমের অস্বস্তি কমাতে অনেকে জোয়ান ব্যবহার করেন। প্রচলিত একটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে দুই-তিনটি পানপাতা পানিতে দিয়ে তার সঙ্গে সামান্য জোয়ান মিশিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। পানি কিছুটা কমে এলে মিশ্রণটি ঠান্ডা করে অল্প পরিমাণে পান করার রীতি রয়েছে।
তবে এই পানীয় হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যথেষ্ট নয়। পেটের সমস্যা বারবার দেখা দিলে তার কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
হজম ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস উপকারী হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ঘরোয়া মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত নয়।
গাঁটে ব্যথায় পানপাতার সেঁক কতটা কার্যকর?
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় কারও কারও গাঁটে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে পানপাতায় সামান্য সরিষার তেল মাখিয়ে হালকা গরম করে ব্যথার স্থানে সেঁক দেওয়ার কথা শোনা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সঙ্গে হলুদও ব্যবহার করা হয়।
তবে এই পদ্ধতিতে গাঁটের ব্যথা বা ফোলাভাব কমে, এমন কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পাতা ত্বকে লাগালে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, গাঁট ফুলে গেলে কিংবা হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক কাজে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পানপাতা ব্যবহারের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার
পানপাতার বিভিন্ন উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিন্তু কোনো উপাদানের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা থাকা মানেই এই নয় যে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে সেটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রোগ সারানো সম্ভব।
বিশেষ করে পানপাতার সঙ্গে সুপারি, চুন ও তামাক মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি। তামাক ও সুপারিযুক্ত পান মুখের ক্যানসারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সাধারণ পানপাতার ব্যবহার এবং সুপারি-তামাক মেশানো পানকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়।
ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে কী করবেন?
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া প্রতিকার সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে হলেও, এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কিংবা শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

