ওজন কমানোর ওষুধে বাড়তে পারে পুরুষের প্রজননক্ষমতা, বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওজন কমানোর ওষুধ পুরুষের প্রজননক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওজন কমানোর ওষুধ পুরুষের প্রজননক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। এসব ওষুধ ব্যবহারে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং শুক্রাণুর গুণগত মানের উন্নতি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (জিএলপি-১) শ্রেণির ওষুধের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থূলতা কমাতে এসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ওজন কমানোর বাইরেও ডিমেনশিয়া ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব ওষুধের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা চলছে।
আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতার সঙ্গে পুরুষের প্রজননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাতের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শুক্রাণুর গুণগত মানের ওপর স্থূলতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ স্থূলতা কমাতে কার্যকর হলেও পুরুষের প্রজনন হরমোন ও সন্তান জন্মদানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করেছেন। এতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ নিয়ে পরিচালিত পাঁচটি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এসব গবেষণায় অংশ নেওয়া পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রার তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত একটি গবেষণায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকা ৩০ জন পুরুষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক দলকে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি) দেওয়া হয়, অন্য দলকে দেওয়া হয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ। ১৬ দিনের চিকিৎসা শেষে উভয় দলের পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়।
অন্য একটি গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হাইপোগোনাডিজমে আক্রান্ত ২৫ জন পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হাইপোগোনাডিজম এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন তৈরি হয় না। তাদের এক দলকে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ এবং অন্য দলকে টিআরটি দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর উভয় দলের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
তবে টিআরটি গ্রহণকারী দলের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি বাড়লেও জিএলপি-১ ওষুধ গ্রহণকারী দলের শুক্রাণুর গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। গবেষণার শুরুতে স্বাভাবিক আকৃতি ও আকারের শুক্রাণুর অনুপাত ছিল ২ শতাংশ। পরীক্ষার শেষে তা বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছায়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্থূলতা ও টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে ভোগা পুরুষদের ক্ষেত্রে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ প্রজনন হরমোন এবং বীর্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।
তবে গবেষণাগুলোর সংখ্যা কম এবং ফলাফলে ভিন্নতা থাকায় এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর এসব ওষুধের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আরও বড় পরিসরে ও সুপরিকল্পিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
সূত্র- ইন্ডিপেন্ডেন্ট

