হাড় মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে লবঙ্গ, গবেষণায় মিলেছে সম্ভাব্য উপকারিতা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মসলা নয়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, যকৃতের কার্যকারিতা সমর্থন করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এই মসলার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন।
লবঙ্গ আস্ত কিংবা গুঁড়া—দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। ভাজা মাংসে স্বাদ বাড়ানো, গরম পানীয়তে সুগন্ধ যোগ করা এবং কেক-বিস্কুট তৈরিতে মসলাটি বহুল ব্যবহৃত।
হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে লবঙ্গ
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের হাড়ের ভর বা ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ভর বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে ভিটামিন কে ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা সুস্থ হাড় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে এসব পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ হাড়ের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এগুলো অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ লবঙ্গ
লবঙ্গে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক রয়েছে।
লবঙ্গে ইউজেনল নামের একটি যৌগও রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লবঙ্গসহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়
তবে লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাব্য উপকারিতার পক্ষে যেসব তথ্য রয়েছে, তার বড় অংশই প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণাভিত্তিক। মানুষের শরীরে একই ধরনের প্রভাব দেখা যায় কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাই হাড় মজবুত করার জন্য শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
